রেইনট্রিতে ধর্ষণ মামলায় সাফাতসহ সবাই খালাস

| শুক্রবার , ১২ নভেম্বর, ২০২১ at ৪:৫৭ পূর্বাহ্ণ

ঢাকার বনানীর রেইনট্রি হোটেলে চার বছর আগে দুই তরুণীকে ধর্ষণের আলোচিত মামলার রায়ে আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমেদসহ পাঁচ আসামির সবাইকে খালাস দিয়েছে আদালত। ঢাকার ৭ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক বেগম মোছা. কামরুন্নাহার গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এ রায় ঘোষণা করেন। খবর বিডিনিউজের।
রায়ের পর্যবেক্ষণে তিনি বলেন, ঘটনার ৩৮ দিন পর মামলা হল। চিকিৎসক মেডিক্যাল রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত পাননি মর্মে মতামত দিলেন। ভুক্তভোগীদের পরিধেয় কাপড়ে কোনো পুরুষের সিমেন্সের কনা পাওয়া যায় নাইৃ। তারপরও তদন্ত চার্জশিট দাখিল করে আদালতের পাবলিক টাইম নষ্ট করেছেন। এতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রেইপ কেসের বিচার ব্যাহত হয়েছে। তিনি অন্য কোনো পক্ষ কর্তৃক প্রভাবিত হয়ে এই চার্জশিট দিয়ে মামলাটি বিচারের জন্য পাঠিয়েছেন। আজকের দিনসহ এই মামলায় ৯৪ কার্যদিবস ব্যয় হয়েছে। ৭২ ঘণ্টার পর মেডিকেল পরীক্ষা করা হলে যে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায় না, সে কথা তুলে ধরে বিচারক পুলিশকে ওই সময়ের পরে কোনো মামলা না নিতে বলেছেন।
মামলায় প্রধান আসামি সাফাত আহমেদ আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে। বাকি আসামিরা হলেন সাফাতের বন্ধু সাদমান সাকিফ ও নাঈম আশরাফ ওরফে এইচএম হালিম, সাফাতের দেহরক্ষী রহমত আলী ও গাড়িচালক বিল্লাল। পাঁচ আসামির সবাই রায়ের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় শেষে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তাদের সবাইকে উৎফুল্ল দেখা যায়।
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আফরোজা ফারহানা আহমেদ অরেঞ্জ বলেন, আমরা আদালতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেছি এ মামলার বিচারে। আদালত ঘটনা এবং নথিপত্রের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে মামলার রায় দিয়েছেন। মামলার সত্যায়িত কপি পাওয়ার পরে আমরা কী করব, সেই সিদ্ধান্ত নিব।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের অন্যতম আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, সাক্ষ্যপ্রমাণ এখানে হাজির করার পরও মেডিকেল রিপোর্ট, ডিএনএ রিপোর্ট, ২২ জনের সাক্ষী, ঘটনাস্থল, ২২ ধারায় বাদীর জবানবন্দি এবং সব কিছুর আলোকে এটা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে এবং আদালত চূড়ান্তভাবে খালাস প্রদান করেছেন। আমরা আনন্দিত।
এ মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন আসামি সাফাত আহমেদ ও নাঈম আশরাফ। ‘জোর করে’ ওই জবানবন্দি আদায় করা হয় বলে পরে অভিযোগ করেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি আদায়ের ’প্রচলিত নিয়ম’ পরিবর্তনেরও দাবি জানিয়েছেন আইনজীবী কাজল।
২০১৭ সালের ২৮ মার্চ বনানীর রেইনট্রি হোটেলে সাফাতের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানিয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই দুই ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয় এ মামলায়। ঘটনার এক মাসের বেশি সময় পর ৬ মে বনানী থানায় মামলাটি করেন এক তরুণী। তার অভিযোগ ছিল, ওই হোটেলে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাকেসহ তার বন্ধুকে রাতভর আটকে রেখে সাফাত ও নাঈম ধর্ষণ করেন। অন্য তিনজন তাতে সহায়তা করেন।
এ বছরের ২৯ অগাস্ট আত্মপক্ষ শুনানিতে আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চেয়েছিলেন। সে সময় তারা সবাই জামিনে ছিলেন। যুক্তিতর্ক শেষে গত ৩ অক্টোবর জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানো হয়। সেদিন এ মামলার রায়ের জন্য ১২ অক্টোবর দিন রেখেছিল আদালত। কিন্তু রায় প্রস্তুত না হওয়ায় তা পিছিয়ে ২৭ অক্টোবর নতুন তারিখ রাখা হয়। ১২ অক্টোবর নিম্ন আদালতের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় রায় ফের পিছিয়ে যায়। সেদিনই রায়ের জন্য ১১ নভেম্বর দিন রাখে আদালত। দুই দফা পিছিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে পাঁচ আসামিকে রায়ের জন্য কারাগার থেকে আদালতে নিয়ে আসা হয়। আদালত পাড়ায় নেওয়া হয় বাড়তি নিরাপত্তা।
রায়ে বিচারক বলেন, রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। ‘উভয়পক্ষের সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্ক’ ঘটেছে। ধর্ষণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধআগ্রাবাদে ইকুইটি মিডসিটির নির্মাণকাজ উদ্বোধন
পরবর্তী নিবন্ধপাকিস্তানকে থামিয়ে ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া