রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ এনসিপির

| বুধবার , ৭ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৫:৩৭ পূর্বাহ্ণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে ধরেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গতকাল মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগের কথা বলেন দলটির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আফিস মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। খবর বাংলানিউজের।

তিনি বলেন, আমাদের যেই ৪৫টা আসনে আমরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি এবং এর বাইরেও আরও যে যে জায়গায় নিয়ম ভঙ্গ হয়েছে, সেগুলো নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা এবং এসব বিষয়ে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ, বিধিপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং যেহেতু সামনে শুনানি আছে, সেই শুনানিতে যেন এ ধরনের কোনো প্রেফারেন্স এবং একতরফা কিছু না দেখা যায় সে বিষয়ে আজকে কথা বলতে এসেছি। তিনি বলেন, আমি যদি দুইটা উদাহরণ দেই, জাতীয় নাগরিক পার্টির দুইজন প্রার্থীর ক্ষেত্রে, যেমন কুমিল্লা৪ সংসদীয় আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির পক্ষ থেকে হাসনাত আব্দুল্লাহ প্রার্থী হিসেবে আছেন। সেখানে আমরা দেখেছি যে, বিএনপির যিনি প্রার্থী তিনি তার প্রায় শত কোটি টাকার উপরে ঋণ খেলাপির তথ্য গোপন করেছেন। যদিও তিনি হাইকোর্ট থেকে সে বিষয়ে অর্ডার বাংলাদেশ ব্যাংকে দিয়েছেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনে দেওেয়া তার হলফনামায় সেই তথ্য তুলে ধরা হয়নি। যেটা স্পষ্টই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন। কিন্তু তারপরেও আমরা দেখলাম যে, তার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, সিলেট১ আসনে আমাদের জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে এতেশাম হক মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। তার দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত যে তথ্য রয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অনুরোধ করেছিলেন যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তিনি পরবর্তীতে দাখিল করবেন। এরপরও তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ একই জেলায় আমরা দেখেছি, সিলেট৩ আসনে বিএনপির প্রার্থীর ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও তার কাগজপত্র পরবর্তীতে দাখিলের শর্তে তার মনোনয়নপত্র বৈধ বলে বিবেচিত হয়েছে। তিনি বলেন, সিলেট জেলার তৎকালীন জেলা প্রশাসক পুরো বিষয়টি অবগত ছিলেন। একই ধরনের পরিস্থিতিতে দুইজন প্রার্থীর ক্ষেত্রে দুই রকম সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে..একজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, অন্যজনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা মনে করি, এটি স্পষ্টভাবে একটি নির্দিষ্ট দলের প্রতি এবং একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রতি প্রশাসনের একতরফা ও পক্ষপাতমূলক আচরণের পরিচয় বহন করে। এগুলো আমাদের দুটি নির্দিষ্ট অভিযোগ এবং এর বাইরেও অন্তত আরও একশটি উদাহরণ রয়েছে। সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, আমার নিজ জন্মস্থানের কথা বলি, সেখানে আমরা দেখলাম বিএনপির যিনি প্রার্থী, তিনি ঋণ খেলাপির কথা উল্লেখ করেননি হলফনামায়। ১৯০ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ আছে এবং একই সাথে তিনি তুরস্কের নাগরিক। আমরা তার সেই আইডি কার্ডও ঘুরতে দেখছি সোশ্যাল মিডিয়ায়। এই দুইটা স্পষ্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন এবং প্রার্থিতা বৈধ বলে বিবেচিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বড় কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতি নির্বাচন কমিশনের কোনো ধরনের দুর্বলতা আমরা দেখতে চাই না। যদি সে ধরনের পরিস্থিতি আমরা দেখি, তাহলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর যে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা সামনে এসেছে, যার জন্য এত মানুষ জীবন দিয়েছেন, আহত হয়েছেন, তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এখনো আমাদের অনেক ভাই গুলিবিদ্ধ হয়ে পঙ্গু হয়ে আছেন। তাদের একমাত্র আকাঙ্‌ক্ষা ছিল একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা যেখানে নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার আসবে, যে গণতান্ত্রিক সরকার আমরা বিগত ১৭ বছর দেখিনি, যেখানে মানুষ নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। আসিফ মাহমুদ বলেন, যদি এই ক্ষেত্রে প্রশাসন, সরকার বা রাজনৈতিক দল যে কোনো পক্ষ এই সম্ভাবনাকে নষ্ট করার কোনো প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয় এবং যদি আমরা আবারও পুরোনো কোনো সেটেলমেন্টের মধ্য দিয়ে, কোনো আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে জনগণকে প্রতারিত করার লক্ষণ দেখি, তাহলে আমরা নির্বাচনের দিন পর্যন্ত বসে থাকব না। প্রয়োজনে আমরা আবার রাজপথে নামব। প্রয়োজনে আমরা সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং জনগণের রায় দেওয়ার অধিকার ছিনিয়ে নেব। তিনি আরও বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে আমরা লক্ষ্য করেছি যে, বিগত কিছুদিন আগে একটি রাজনৈতিক দলের চেয়ারপারসন দেশে এসেছেন। আমরা অবশ্যই তাকে আমাদের দলের পক্ষ থেকে, পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও স্বাগত জানিয়েছি। কিন্তু এর পরপরই যা ঘটেছে, তা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি অশনিসংকেত। আমরা দেখেছি, বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা একটি নির্দিষ্ট দলীয় কার্যালয়ের দিকে কার্যত তাদের ‘কেবলা’ ঠিক করে ফেলেছেন। তারা সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করছেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদিলীপ আগরওয়ালার স্ত্রীর জমি-দোকান ও বাণিজ্যিক স্পেস জব্দ
পরবর্তী নিবন্ধওবায়দুল কাদের, সাবেক ১৩ সচিবের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা