গভর্নর আহসান এইচ মনসুরকে সরিয়ে দেওয়ার দিনে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩০ বিলিয়ন ডলারের কিছু বেশি। প্রবাসীদের পাঠানোর রেমিটেন্স বেড়ে যাওয়ার বিপরীতে সামপ্রতিক কয়েক মাসে আমদানিসহ অন্যান্য ব্যয় কমে যাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সংরক্ষিত বিদেশি মুদ্রার পরিমাণ আগের অন্য সময়ের চেয়ে বেশ বেড়েছে।
একই সঙ্গে বাজারে বৈদেশিক মুদ্রার অতিরিক্ত চাহিদা যেমন তৈরি হয়নি, তেমনি বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত বিরতিতে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কিনছে। বিদেশি মুদ্রার লেনদেনকারী ব্যাংকগুলোর কাছেও চাহিদার চেয়ে বাড়তি ডলার মজুত রয়েছে। এসব কারণে রেমিটেন্সও গত কয়েক মাস থেকে বাড়ছে, যা বুধবার দিন শেষে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর বিপিএম৬ পদ্ধতিতে দাঁড়িয়েছে ৩০ দশমিক ২৭ বিলিয়ন (৩০২৭ কোটি ৯৪ লাখ ডলার)। গ্রস হিসেবে রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি (৩৫ দশমিক ০৩ বিলিয়ন) থাকার তথ্য দেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান। খবর বিডিনিউজের।
আগের দিন ব্যাংকগুলো থেকে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে ৮ কোটি ৭০ লাখ ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি ফেব্রুয়ারিতে কেনা হয় মোট ১৫৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
অপরদিকে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত মোট ৫৪৬ কোটি ৮৫ লাখ ডলার কেনা হয়েছে। চব্বিশের আন্দোলনের আগে পরে ডলার সংকট ছিল তীব্র। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ২২ অগাস্ট রিজার্ভের পরিমাণ ছিল বিপিএম৬ পদ্ধতিতে ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়ন এবং গ্রস হিসাবে ২৫ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ সালের ১৩ অগাস্ট অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুরকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে চার বছরের জন্য দায়িত্ব দেয়। এরপর থেকে তিনি দায়িত্ব পালন করেন ১৮ মাস ১২ দিন। গতকাল তার অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে নতুন গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় পোশাক খাতের ব্যবসায়ী মো. মোস্তাকুর রহমানকে।
আগামী জুনের মধ্যে গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ৩৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন আহসান এইচ মনসুর।












