রাস্তায় ছটফট করছিল শিশু, চোখে সুপার গ্লু, শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন

অভিযোগ বোন জামাইয়ের বিরুদ্ধে

| রবিবার , ৫ এপ্রিল, ২০২৬ at ৮:০০ পূর্বাহ্ণ

ঢাকার সাভার উপজেলায় সাত বছরের এক শিশুকে নির্যাতন ও দুই চোখে সুপার গ্লু লাগিয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বোন জামাইয়ের বিরুদ্ধে। গতকাল শনিবার সকালে বংশী নদীর তীরে একটি পার্কের কাছে পথচারীরা শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় বলে জানান সাভার মডেল থানার এসআই মুস্তাকিম বিল্লাহ। তিনি বলেন, শিশুটিকে যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে, সেই ধামরাই থানার অধীনে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে ধামরাই থানার ওসির সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। আহত মো. ওয়াহেদকে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলেও পরে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। সে সাভার পৌর এলাকার ভাগলপুর মহল্লায় মা ও সৎ বাবার সঙ্গে বসবাস করে। খবর বিডিনিউজের।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বংশী নদীর তীরে একটি পার্কের কাছে রাস্তার পাশে শিশুটিকে ছটফট করতে দেখে এগিয়ে যান পথচারীরা। এ সময় শিশুটি আর্তনাদ করে বলছিল, আমাকে বাঁচান, আমি কিছু দেখতে পারছি না। কাছে গিয়ে দেখা যায়, শিশুটির সারা শরীরে মারধরের চিহ্ন এবং তার দুই চোখের পাতা আঠা (সুপার গ্লু) দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে। চোখ দিয়ে রক্ত ও পানি ঝরছিল। পথচারী শিরিনা আক্তার বলেন, শিশুটির আর্তনাদ শুনে তাকে উদ্ধারে অন্য কেউ এগিয়ে না আসলেও আমি তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। চিকিৎসকরা জানান, শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। তার চোখের ভেতর রাসায়নিক আঠা থাকায় দৃষ্টিশক্তির মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটি বলে, তার আপন বোন জামাই রাজ্জাক তাকে মারধর করেছে। এক পর্যায়ে তার দুই চোখে আঠা লাগিয়ে দিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। তবে কী কারণে এ নৃশংসতা চালানো হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

শিশুটির রিকশা চালক সৎ বাবা নাজিমুদ্দিন বলেন, আমি শিশুটিকেসহ তার মাকে প্রায় ছয় মাস আগে বিয়ে করি। সাত বছরের এ বাচ্চাটিকে নিজের সন্তানের মতই দেখতেছি। সকালে জানতে পারি শিশুটির বোন জামাই রাজ্জাক তাকে বেড়ানোর কথা বলে নিয়ে নির্যাতন করে চোখে আঠা লাগিয়ে দিয়েছে। শিশুটির মা সাহিদা বেগম বলেন, আমি গার্মেন্টসে চাকরি করি। সারাদিন বাড়িতে থাকি না। হঠাৎ জানতে পারি আমার মেয়ে জামাই রাজ্জাক ছোট ছেলেকে বেড়ানোর কথা বলে ডেকে নিয়ে নির্যাতন করে চোখে আঠা লাগিয়ে দিয়েছে। এখন তার অবস্থা খুব খারাপ।

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা চিকিৎসক মো. তৌহিদ আল হাসান বলেন, শিশুটির দুই চোখে সুপার গ্লু দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তার চোখে আঘাত করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য শিশুটিকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এসআই মুস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, খবর পাওয়া মাত্রই হাসপাতালে ছুটে আসি। শিশুটির বোন জামাই রাজ্জাক এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি বলেন, শিশুটিকে অসুস্থ অবস্থায় পাওয়া স্থানটি ধামরাই থানার অধীনে। পরে ধামরাই থানার ওসিকে বিষয়টি জানানো হয়। তবে শিশুটির পরিবারের কেউ অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার পর থেকে শিশুটির বোন জামাই রাজ্জাক পলাতক আছেন। মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধতেহরানের রাস্তায় প্রকাশ্যে ইরানি নেতারা, দেখাচ্ছেন নিয়ন্ত্রণ এখনও অটুট
পরবর্তী নিবন্ধশিক্ষক সুবোধ চন্দ্র মন্ডলের পরলোকগমন