রাসায়নিক পণ্য যথাসময়ে খালাস করে না নিলে নিলামে বিক্রি

চট্টগ্রাম কাস্টমস

আজাদী প্রতিবেদন | বুধবার , ৮ জুন, ২০২২ at ৬:৩০ পূর্বাহ্ণ

সীতাকুণ্ডের বিএম কন্টেনার ডিপোতে আগুন ও রাসায়নিক ভর্তি কন্টেনার বিস্ফোরণের ঘটনায় টনক নড়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষের। চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে রাসায়নিক পদার্থ জাতীয় পণ্য আমদানি হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে এবং বিমানবন্দরে আমদানির ২১ দিনের মধ্যে খালাস নেয়ার জন্য বিশেষভাবে জোর দিচ্ছেন কাস্টমস কর্মকর্তারা।

গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রাম কাস্টমস থেকে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কাস্টমস আইনের অ্যাক্ট ১৯৬৯ সেকশন ৮২ এর সাব-সেকশন-১ এর ধারা মতে, সমুদ্র বন্দরের মাধ্যমে আমদানিকৃত পণ্যচালান বন্দরে অবতরণের ৩০ দিনের মধ্যে এবং বিমান বন্দরে অবতরণের পরবর্তী ২১ দিনের মধ্যে অথবা উভয়ক্ষেত্রে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের অনুমোদিত অতিরিক্ত সময়সীমার মধ্যে শুল্ক কর পরিশোধ করে খালাস নিতে হবে। বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে, আমদানিকারকগণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের আমদানিকৃত পণ্য চালান খালাস নিচ্ছেন না। এই অবস্থায় চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অধিক্ষেত্রাধীন চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর, সকল বেসরকারি কন্টেনার ডিপো এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মাধ্যমে রাসায়নিক জাতীয় পণ্যসহ সকল পণ্যচলান দ্রুত খালাস গ্রহণে অনুরোধ করা হল।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের উপ-কমিশনার (প্রিভেন্টিভ) নুর উদ্দিন মিলন দৈনিক আজাদীকে বলেন, সকল ধরনের পণ্যচালান সমুদ্র বন্দরের মাধ্যমে আমদানি হলে ৩০ দিনের মধ্যে এবং বিমানবন্দরের মাধ্যমে আমদানি হলে ২১ দিনের মধ্যে খালাস নেয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু আমদানিকারকরা এটি মানেন না। ফলে চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেনার জট সৃষ্টি হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা হল- চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর এবং বিমান বন্দরে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক পদার্থ জাতীয় পণ্য আসে। এসব পণ্য বন্দরের অভ্যন্তরণে দীর্ঘদিন ফেলে রাখাটাও ঝুঁকিপূর্ণ।

অতি সম্প্রতি সীতাকুণ্ডের বিএম কন্টেনার ডিপোতে আগুন ও কন্টেনার ভর্তি হাইড্রোজেন পার অক্সাইড থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা দেশব্যাপী আলোচিত। তাই আমরা বিশেষভাবে রাসায়নিক জাতীয় পদার্থ যথাসময়ে খালাস নিতে আমদানিকারকদের অনুরোধ জানাচ্ছি। অন্যথায় নির্দিষ্ট সময়ের পরে আমরা সেইসব রাসায়নিকের চালান নিলামে বিক্রি করে দেব।

উল্লেখ্য, গত সোমবার চট্টগ্রাম বন্দরে চার বছর ধরে পড়ে থাকা ৩০ টন হাইড্রোজেন পার অক্সাইড ৫ লাখ ২০ হাজার টাকায় প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধএসিড ভর্তি কন্টেনারে ধোঁয়া, বন্দরে আতংক
পরবর্তী নিবন্ধদুটি কারণ খুঁজছে অনুসন্ধান কমিটি