খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দর সংশ্লিষ্ট এলাকায় পরিবেশ সংরক্ষণে নিয়মিত নজরদারি জোরদার ও পাহাড় কাটার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেছেন নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম. সাখাওয়াত হোসেন। গতকাল বুধবার দুপুরে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘ভারতের জন্য বন্দর নির্মাণে পাহাড় কেটে জমি ভরাট’ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে তিনি এ নির্দেশ দেন। খবর বাসসের।
সংবাদে উত্থাপিত অভিযোগের সত্যতা যাচাই, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, পরিবেশগত ও কারিগরি দিকসমূহ মূল্যায়ন এবং কোনো অনিয়ম বা অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে নৌপরিবহন উপদেষ্টার নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি সরেজমিন পরিদর্শন, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা, স্থানীয় জনগণের সাক্ষাৎকার গ্রহণ, প্রকৌশলগত মান যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে তাদের প্রতিবেদন দাখিল করেছে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রামগড় স্থলবন্দরের সাইট ডেভেলপমেন্ট ও বালু ভরাটের কাজ জানুয়ারি ২০২৪ মাসে শুরু হয়ে এপ্রিল ২০২৪ মাসে সম্পন্ন হয়। চুক্তি অনুযায়ী মোট ১,৮৯,২৩২.২৮১ ঘনমিটার বালু ভরাটের বিপরীতে ১,৮৭,৫০৯.২৪৪ ঘনমিটার কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং এ পর্যন্ত প্রায় ২০.১৫ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। প্রকল্পের অবশিষ্ট বিল প্রায় ৪৮ লাখ টাকা, যা তত্ত্বাবধায়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার সময়কাল বিবেচনায় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত ২০২৬ সালের জানুয়ারির সংবাদ ও আলোকচিত্র স্থলবন্দরের জমি ভরাট কার্যক্রমের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পর্কিত নয় বলে কমিটি মতামত প্রদান করেছে।
নৌপরিবহন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, পরিবেশ ধ্বংস, অবৈধ পাহাড় কাটা কিংবা সরকারি প্রকল্পে কোনো ধরনের অনিয়ম সরকার কোনোভাবেই বরদাশত করবে না। তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী পরিবেশ সংরক্ষণে নিয়মিত নজরদারি জোরদার, অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং রামগড় স্থলবন্দরের অবকাঠামোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হবে।












