রান্নাঘরের ভেতরে অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ আর ঝাঁকে ঝাঁকে তেলাপোকা। ইঁদুরের তাজা বিষ্ঠা খাদ্যপণ্যের ঢাকনায়। এমন অস্বাস্থ্যকার–অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে বেকারি সামগ্রী ও ইফতার তৈরি করে বাজারজাত করার কারণে নগরীর জিইসি মোড়ের হারুন বেকারিকে সাময়িকভাবে বন্ধসহ সিলগালা করে দিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সংস্থাটির একটি দল এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানটিকে সিলগালা করে দেয়ার পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপপরিচালক ফয়েজ উল্যাহ বলেন, একেবারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। হাজার হাজার, লাখ লাখ তেলাপোকা। খাদ্যপণ্যের ঢাকনার ওপর ইঁদুরের তাজা বিষ্ঠা। অস্বাভাবিক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ। এখানে যে পরিমাণ তেলাপোকা দেখা গেছে তা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে দেখা যায়নি। এছাড়া ভেতরে ইঁদুরের বিষ্ঠাও পাওয়া গেছে যা খাদ্য প্রস্তুতের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
এসময় বেকারি মালিককে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, আমি সবাইকে দেখিয়ে সিল করে দিচ্ছি। এটা থেকে ফেরত আসেন। মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমবে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিলে তখন দোকান খুলে দেওয়া হবে। কোনো কেমিক্যাল ব্যবহার করবেন না। আপনার প্রতিষ্ঠানের মতো তেলাপোকা সাম্প্রতিক সময়ে আমি কোথাও দেখিনি। ইঁদুর যখন নিরাপদ আশ্রয় পায় তখন বিষ্ঠা ছাড়ে। আপনার এটা তাদের অবাধ বিচরণের জায়গা।
প্রতিষ্ঠানটিতে জিলাপি তৈরির খামিতে ক্ষতিকর হাইড্রোজ মেশানো হয়েছে কি না তাও পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। তবে সেখানে এমন কোনো উপাদান পাওয়া যায়নি। একই অভিযানে পাশের আর একটি হোটেলে মুরগির মাংস ও অপরিষ্কার পরিবেশে খাবার উৎপাদনের অনিয়ম পায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, কিচেন ম্যানেজমেন্ট ভালো না। আরও উন্নত পরিবেশে খাবার প্রক্রিয়াজাত করতে হবে। দধিতে মেয়াদ দিচ্ছে না। তাই ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে আর একটি দোকানকে অনুমোদনহীন বিদেশি পণ্য ও নকল পণ্য রাখার দায়ে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।












