লোহাগাড়ায় রাতের আঁধারে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে টিলা কেটে মাটি বিক্রি করা হচ্ছে। উপজেলার পুটিবিলা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নতুন পাড়ার সোলতান শাহ পাহাড় থেকে এসব মাটি কাটছে একটি প্রভাবশালী মহল। ক্ষত চিহ্ন আড়াল করতে সড়কের পাশে কালো পলিথিনের পর্দা দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কিছুদিন যাবত রাতের আঁধারে এক্সকেভেটর দিয়ে সোলতান শাহ পাহাড়ে মহিউদ্দিন লেদুর বাড়ির পাশে ও বড় ডেবার জোরা সংলগ্ন এলাকা থেকে মাটি কাটা শুরু করে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল। মাটিখেকো চক্রটি ইতোমধ্যে ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি টিলা কেটে সাবাড় করে দিয়েছে। এভাবে টিলা কাটার কারণে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ঘটছে। টিলার কাটার কাজে জড়িতরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের ব্যাপারে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, সোলতান শাহ পাহাড়ের বড় ডেবার জোরা সংলগ্ন এলাকায় এখনো এঙকেভেটরের দাঁত স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। মাটি কাটার ফলে বর্ষা মৌসুমে টিলার মাটি ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া টিলায় রোপিত বিভিন্ন প্রজাতির গাছও কাটা হয়েছে। এভাবে টিলা কাটায় নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসাম্য। হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য।
অভিযুক্ত মহিউদ্দিন লেদু জানান, টিলার জায়গা তার খতিয়ানভুক্ত। গোয়াল ঘর নির্মাণ করার জন্য টিলার মাটি কেটে সমান করা হচ্ছে। তবে টিলা কেটে মাটি বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।
স্থানীয় পরিবেশবাদীরা জানান, প্রতিনিয়ত প্রশাসনের নাকের ডগায় টিলা–পাহাড় ও কৃষিজমির মাটি কেটে পাচার করা হচ্ছে। মাটিখোকোদের পাশাপাশি স্থানীয় অনেক জনপ্রতিনিধি এসব কাজে জড়িত। পরিবেশ ধ্বংসকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম জানান, টিলার মাটি কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।












