আনোয়ারায় রাতের আধাঁরে চলছে মাটি কাটার মহোৎসব। উপজেলার বটতলী ইউনিয়নে অবস্থিত দুটি ইটভাটায় রাতের আঁধারে যাচ্ছে ট্রাকভর্তি ফসলি জমির মাটি। এছাড়া রায়পুর, বটতলী, বারশত, বারখাইন, বরুমচড়া, আনোয়ারা, হাইলধরসহ বিভিন্ন এলাকায় চলছে মাটি কাটার ধুম। মাটিখেকোদের থাবায় কৃষি জমি ক্ষত–বিক্ষত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি খাস জমিও রেহাই পাচ্ছে না। এ ব্যাপারে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করলেও মাটিকাটা বন্ধে প্রশাসনের কার্যকরী তেমন কোনো পদক্ষেপ বা অভিযান নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন ইতোমধ্যে মাটি কাটার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
বটতলী গ্রামের বাসিন্দা নজরুল অভিযোগ করে বলেন, বিগত ২ মাসের বেশি সময় ধরে স্থানীয় কয়েকজন নামধারী সমন্বয়ক ও রাজনৈতিক দলের নেতা প্রতিরাতে ফসলি জমি ও পুকুরের মাটি কেটে ট্রাকে করে দুই ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলেও ইটভাটার মালিকের পক্ষ থেকে আসে মামলার হুমকি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি বলেন, উপজেলা প্রশাসন ও থানা প্রশাসনকে মাটি কাটার বিষয়ে একাধিকবার অভিযোগ করার পর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও ইটভাটাগুলোতে কোনো অভিযান পরিচালনা করা হয়নি। এতে জনমনে প্রশাসনের নিরবতা নিয়ে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রায়পুরের বাসিন্দ আবদুল জলিল জানান, তার দখলীয় জমি থেকে রাতের আধাঁরে মাটি কাটা নেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গত বৃহস্পতিবার লিখিত অভিযোগ করেছেন।
স্থানীয়রা জানায়, বর্তমানে বটতলী, সরেঙ্গা, রায়পুর, জুইঁদন্ডী, কালিবাড়ি বারশত, বোয়ালিয়া, পরুয়া পাড়া, দুধ কুমড়া গ্রামসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামে ৩০টির অধিক মাটিকাটা সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি করছে। কিন্তু স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করলেও নির্বাচনের অজুহাতে কোনো অভিযান হচ্ছে।
জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা জানান, মাটি কাটার অভিযোগে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। তবে ইটভাটায় এখনো অভিযান পরিচালিত হয়নি বলে জানান তিনি।
আনোয়ারা থানার ওসি মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, সব ধরনের অপরাধ নির্মূলে পুলিশ কাজ করছে। উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করলে পুলিশ সব ধরনের সহযোগিতা করবে।












