ভারতের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় পাস হওয়ার পর উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায়ও সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের ভোটে ওয়াকফ সংশোধনী বিল পাস হয়েছে।
দীর্ঘ বিতর্কের পর গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ১২৮–৯৫ ভোটে বিলটি পার্লামেন্টের শেষ বৈতরনি পার করে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি, হিন্দু। রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের পরই বিলটি আইনে পরিণত হবে। তবে বিরোধীদল কংগ্রেস এত সহজে হার মানছে না, তারা বিলটি নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আমরা শিগগিরই ওয়াকফ (সংশোধনী) বিল–২০২৫ এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে যাবো গতকাল শুক্রবার এমনটাই বলেছেন কংগ্রেসের মুখপাত্র জয়রাম রমেশ। বর্তমান আইনে ওয়াকফ প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের আয়ের ৭ শতাংশ বাধ্যতামূলকভাবে ওয়াকফ বোর্ডকে দেওয়া লাগতো। নতুন সংশোধনীতে তা কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। খবর বিডিনিউজের।
কোনো ওয়াকফ প্রতিষ্ঠান এক লাখের বেশি আয় করলে তাদের আয়–ব্যয়ের হিসাব রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া কোনো অডিটর দিয়ে যাচাই করানো লাগবে। একটি কেন্দ্রীভূত পোর্টাল ওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনাকে স্বয়ংক্রিয় করবে, দক্ষতা এবং স্বচ্ছতার উন্নতি ঘটাবে। সংশোধিত এ বিলে অন্তত ৫ বছর ধর্মকর্ম করেছেন এমন মুসলিমদেরই তাদের সম্পত্তি ওয়াকফ করার সুযোগ দিতে বলা হয়েছে। ২০১৩–র আগেও এমনই নিয়ম ছিল। তবে কেউ সম্পত্তি ওয়াকফ করার আগে অবশ্যই উত্তরাধিকার, বিশেষ করে নারীদের প্রাপ্য মিটিয়ে দিতে হবে। বিধবা, তালাকপ্রাপ্ত নারী ও এতিমদের সুরক্ষাও নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা যেসব সম্পত্তি ওয়াকফ সম্পত্তি বলে দাবি করা হয়, কালেক্টরের উপরের পদে থাকা সরকারি কর্মকর্তাদের দিয়ে ওইসব সম্পত্তি বিষয়ে তদন্ত করা হবে।