বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, রাজার ছেলে রাজা হবে–এমন মতবাদে বিশ্বাস করে না জামায়াত। তিনি বলেন, এই নীতিতে আমরা বিশ্বাসী নই। এদেশে এমপি, মন্ত্রী কিংবা প্রধানমন্ত্রী; যেই হোক না কেন, অপরাধ করলে তার বিচার নিশ্চিত করতে চাই। আমরা ন্যায়বিচার ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
গতকাল সোমবার কক্সবাজার শহরের মুক্তিযোদ্ধা মাঠে ১১ দলীয় জোট আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে দুপুরে মহেশখালীতে এক নির্বাচনী জনসভায় আমীর বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে আল্লাহর রহমতে মহেশখালী ও কুতুবদিয়াকে হংকং–সিঙ্গাপুরের আদলে রূপান্তরিত করা হবে। তিনি বলেন, ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ প্রার্থীদের মধ্যে ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ একজন। এমপি নির্বাচিত হলে মন্ত্রী হবেন তিনি। আপনারা ভুল করবেন না। হামিদুর রহমান আযাদকে নির্বাচিত করবেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমি শুধু জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাই না; আমি চাই বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। এ দেশের মানুষের বিজয় হলেই ইনশাল্লাহ জামায়াতের বিজয় নিশ্চিত হবে। ২৪–এর ছাত্র–জনতা যে স্বপ্ন নিয়ে লড়াই করেছে, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নই আমাদের মূল অঙ্গীকার। আমরা স্পষ্ট করে বলছি, সংস্কারের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং ফ্যাসিবাদের পক্ষে ‘না’ ভোট। ‘হ্যাঁ’ এর বিপক্ষে যারা অবস্থান নেবেন, বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ ধরে নেবে–তারা আবার ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে চান। আবার পরিবারকেন্দ্রিক স্বৈরতান্ত্রিক শাসন বাংলাদেশে চালু করতে চান।
গতকাল দুপুর ১২টায় ডা. শফিকুর রহমানকে বহনকারী হেলিকপ্টার মহেশখালীতে অবতরণ করে। এরপর নতুন বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন তিনি। জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কক্সবাজার–২ (মহেশখালী–কুতুবদিয়া) আসনে দলের মনোনীত প্রার্থী হামিদুর রহমান আযাদ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মহেশখালী–কুতুবদিয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটা পটেনশিয়াল জায়গা হচ্ছে এই দুই উপজেলা। মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে আমরা সিঙ্গাপুর কিংবা হংকংয়ের চেয়েও ভালো জায়গায় যেতে পারব। এই মহেশখালীকে একটি স্মার্ট ইকোনমিক জোন হিসেবে গড়ে তোলা হবে। তখনই যুবকদের কর্মসংস্থান হবে।
জামায়াতের মহেশখালী উপজেলা উত্তর শাখার আমীর নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, জামায়াতের চট্টগ্রাম বিভাগীয় নির্বাচন পরিচালক মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি রাশেদুল ইসলাম প্রধান, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান, বাংলাদেশ খেলাফতে মজলিসের সূরা সদস্য অধ্যক্ষ ওবায়দুল কাদের নদভী কাসেমী, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মূসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা আবু সাঈদ নোমান, নারায়ণগঞ্জ জেলা আমীর মাওলানা আবু রেজা নদভী, ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি ছিবগাতুল্লাহ, কুতুবদিয়ার সাবেক চেয়ারম্যান আ স ম শাহরিয়ার চৌধুরী, মহেশখালী দক্ষিণ শাখার আমীর শামীম ইকবাল, জাকের হোসাইন প্রমুখ।
অন্যদিকে কঙবাজার শহরের জনসভায় জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় এবং জেলা সভাপতি ও উখিয়া–টেকনাফ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ নূর আহমদ আনোয়ারীর সভাপতিত্বে কঙবাজার–১ আসনের প্রার্থী আবদুল্লাহ আল ফারুক, কঙবাজার–৩ আসনের প্রার্থী শহিদুল আলম বাহাদুর, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা ডা. মাহমুদা মিতু, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সভাপতি মো. পারভেজ প্রমুখ অংশ নেন।












