রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) জায়গা না পেয়ে একাধিক শিশু মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, ওই হাসপাতালের পরিচালককে ফাঁসি কাষ্ঠে চড়ানো উচিত।
রাজধানী ঢাকায় গতকাল শনিবার এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ১১ দিনে ৩৩টা রোগী মারা গেছে। ৩৩ জন বেবি মারা গেছে আমার রাজশাহীতে। সেই পরিচালক আমাদেরকে বলে নাই যে তার ভেন্টিলেটর নেই, নিউনেটাল ভেন্টিলেটর নেই। ওকে ফাঁসি কাষ্ঠে চড়ানো উচিত। খবর বিডিনিউজের।
ঢাকার একটি দৈনিকে আইসিইউ ভেন্টিলেশনের অভাবে শিশু মৃত্যুর এ খবর প্রকাশের পর মন্ত্রী রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওই পরিচালককে ফোন করে জানতে পারেন, ওই হাপসাতালে শিশুদের জন্য ভেন্টিলেটর নেই। পরে ব্যক্তিগত উদ্যোগ নিয়ে বেসরকারি সহায়তায় তিনটি ভেন্টিলেটর সংগ্রহ করে রাজশাহীতে পাঠানোর পদক্ষেপের কথা ওই অনুষ্ঠানে বলেন মন্ত্রী বকুল। সরকারিভাবে কেনাকাটা সময়সাপেক্ষ হওয়ায় এমন উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলেন তিনি।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমি ফোন করার পর তিনি (পরিচালক) দাবি করেন, মিডিয়া একটু বাড়াবাড়ি করছে। কিন্তু গতকাল প্রতিবেদন পাওয়ার পর দেখা গেল, মিডিয়া যা বলেছে তা–ই সত্য। তিনি আর বিষয়টি অস্বীকার করতে পারেননি।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউর জন্য অপেক্ষায় থাকা ৩৩ শিশু ১১ থেকে ২২ মার্চের মধ্যে মারা গেছে বলে ২৬ মার্চ এক প্রতিবেদনে তুলে ধরে ঐ গণমাধ্যম। এর দুদিন পর শনিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী সোসাইটি অব সার্জনস অব বাংলাদেশ আয়োজিত ‘সিএমই অন মেডিকেল এথিকস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে কথা বলেন।
শাহবাগে একটি কনভেনশন সেন্টারে এ অনুষ্ঠানে সরকারি পর্যায়ে ভেন্টিলেটর কেনাকে কঠিন বিষয় হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি নিজে খুব গর্ববোধ করি না। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত যোগাযোগে আমি ওষুধ উৎপাদকদের দুই একজনের সাথে আলাপ করে; ওনারা খুব দয়াবশত আমাকে অন ইমারজেন্সি বেসিসে তারা তিনটা ভেন্টিলেটর আজকে কিনে দিচ্ছেন। আমার মানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও সচিব তারা গিয়েছেন, কিনে সরবরাহ দিচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে দেশের স্বাস্থ্যখাতকে দুষ্কৃতি ও দুর্নীতিমুক্ত করার প্রত্যয়ও তুলে ধরেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে চিকিৎসা খাতকে এগিয়ে নিতে চিকিৎসকদের সহযোগিতা চান।












