রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিন নবজাতকের জন্ম

সরকারি সেবায় আস্থা বাড়ছে সাধারণ মানুষের

জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া | রবিবার , ১ মার্চ, ২০২৬ at ১১:২১ পূর্বাহ্ণ

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একই দিনে স্বাভাবিক প্রসবের (নরমাল ডেলিভারি) মাধ্যমে তিনটি ফুটফুটে শিশুর জন্ম হয়েছে। অত্যন্ত নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসকদের দক্ষ তত্ত্বাবধানে এই প্রসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। বর্তমানে মা ও নবজাতকরা সুস্থ অবস্থায় শনিবার নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রসূতি মায়েরা সঠিক সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় এবং নিয়মিত চেকআপে থাকায় কোনো ধরনের জটিলতা ছাড়াই নিরাপদ প্রসব নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে বর্তমানে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন প্রসবসেবা চালু রয়েছে। দক্ষ চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি এখানে প্রয়োজনীয় আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের সুব্যবস্থা রয়েছে। শুধু নরমাল ডেলিভারিই নয়, বিশেষ প্রয়োজনে এখানে নিয়মিত ‘ইলেক্টিভ সিজারিয়ান সেকশন’ও সম্পন্ন করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. সাহেদ হোসেন এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন: “সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। সরকারি হাসপাতালে উন্নত সেবা ও অভিজ্ঞ জনবল থাকায় এখন প্রসূতি মায়েরা আগের চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ। আমরা চাই প্রতিটি পরিবার নিরাপদ মাতৃত্ব নিশ্চিত করতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর ভরসা রাখুক।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মা ও নবজাতকের এই সুস্থতা আবারও প্রমাণ করল য্তেসঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত এবং সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখলে প্রসবকালীন ঝুঁকি অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব। নবজাতকদের আগমনে হাসপাতালজুড়ে যেমন আনন্দের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল, তেমনি এটি স্থানীয় জনগণের মাঝে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি নতুন করে আস্থা জাগিয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা জানান, হাসপাতালে নিরাপদে ডেলিভারি করানো হলে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে না, পাশাপাশি কোনো প্রকার অর্থও ব্যয় হয় না। হাসপাতালে গর্ভবতী মায়েদের প্রসব পূর্ববর্তী ও পরবর্তী চিকিৎসা ও পরমার্শ প্রদান করা হচ্ছে। এতে নিয়মিত নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা বাড়ছে। এখানে কিছু অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। এসব বিষয় সমাধান করা গেলে সেবার আরও বাড়ানো যাবে বলে জানান তিনি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিজয়’৭১ এর প্রতিযোগিতা
পরবর্তী নিবন্ধসাতকানিয়ায় গভীর রাতে আবাদি জমির মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান