রাঙ্গুনিয়ায় মিষ্টি কুমড়া চাষে সাফল্য পেয়েছেন কৃষকরা। সরকারের কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় বিস্তৃত উচ্চফলনশীল হাইব্রিড বীজ বদলে দিয়েছে উপজেলার বহু কৃষকের ভাগ্য। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে চাষাবাদের খরচের তুলনায় আয়ের অনুপাত প্রায় ১৮ গুণ। উৎপাদিত কুমড়া স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। খেতেই কুমড়ার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়, আর প্রতিটি কুমড়া ওজন অনুযায়ী ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় উপজেলার ৬০০ জন কৃষককে বিনামূল্যে হাইব্রিড মিষ্টি কুমড়া, শসা, লাউ ও বেগুন বীজ প্রদান করা হয়েছিল। তাদের প্রত্যেককে ২০ শতক জমির জন্য এক প্রকার বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার সরবরাহ করা হয়। তিন মাস আগে দেওয়া বীজগুলো আবাদ করে কৃষকরা ভালো ফলন পেয়েছেন এবং উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হয়েছেন।
উপজেলার মরিয়মগর ইউনিয়নের নজরের টিলা ব্লকে ১০ জন কৃষক প্রণোদনা হিসেবে হাইব্রিড মিষ্টি কুমড়া বীজ পেয়েছিলেন। তাদের মধ্যে একজন তিমির মুৎসুদ্দি। কথা বলে জানা যায়, তিনি নিজের জমিতে ৬০টি মাদা (বীজ তলা) তৈরি করেছেন। বীজের উচ্চমানের কারণে গাছের বৃদ্ধি শুরু থেকেই চোখে পড়ার মতো ছিল।
তিমির মুৎসুদ্দির চাষাবাদের সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো খরচ ও আয়ের অনুপাত। পুরো প্রক্রিয়ায় তার খরচ হয়েছে মাত্র দেড় হাজার টাকা। তার ৬০টি মাদা থেকে ৩০০টি মিষ্টি কুমড়া ফলন এসেছে, যার গড় ওজন প্রতিটি ৩ কেজি। মোট উৎপাদন প্রায় ৯০০ কেজি। বর্তমান বাজার অনুযায়ী প্রায় ২৭ হাজার টাকা বিক্রির আশা করছেন তিনি।
সাফল্যে উৎফুল্ল কৃষক তিমির মুৎসুদ্দি বলেন, সরকার থেকে দেওয়া হাইব্রিড বীজগুলো সত্যিই খুব ভালো মানের। মাত্র তিন মাসের কঠোর পরিশ্রমে আমি এই ফলন পেয়েছি। খরচ হয়েছে খুবই সামান্য, কিন্তু লাভ হয়েছে অনেক বেশি। কৃষি অফিসের সঠিক পরামর্শ ও উন্নত বীজের কারণে এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার ইমরুল কায়েস জানান, কৃষকদের স্বাবলম্বী করতে এবং পুষ্টির চাহিদা মেটাতে নিয়মিত উন্নত জাতের বীজ বিতরণ করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সাফল্য অন্যান্য কৃষকদেরও আধুনিক জাতের সবজি চাষে উৎসাহিত করবে। কৃষকদের পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।












