চট্টগ্রামের দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পদুয়া ইউনিয়নে চাঞ্চল্যকর মো. সুমন (৩৬) হত্যা মামলার তদন্ত ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে একটি কুচক্রী মহল পুলিশের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে ভুয়া চ্যাটলিস্ট তৈরি ও ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গতকাল শনিবার বিকালে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমদ। জানা যায়, চলতি বছরের গত ৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের সারাসিয়া দক্ষিণ পাড়া খাজা গরীবে নেওয়াজ খানকা শরীফের সামনে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা মো. সুমনকে গলা কেটে হত্যা করে। এ ঘটনায় ৭ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং–০২) দায়ের করা হয়। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় এসআই নূর উদ্দিনকে। পরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় তদন্তের এক পর্যায়ে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গত ৪ মার্চ সারাসিয়া এলাকা থেকে মো. রিমন ওরফে রিটু (২৩) নামক এক যুবককে গ্রেপ্তার করেন এসআই মো. শাহিন মিয়া। পরদিন ৫ মার্চ আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। পুলিশের দাবি, মূল হত্যাকারীদের আড়াল করতে ও তদন্তের গতি থামাতে একটি মহল সক্রিয় হয়ে উঠেছে। গত ৫ মার্চ থেকে একটি ফেসবুক পেজ থেকে এসআই মো. শাহিন মিয়ার নাম ও ছবি ব্যবহার করে কিছু ভুয়া কনভারসেশনের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দেওয়া হয়। ওই স্ক্রিনশটগুলোতে টাকা লেনদেন ও নিরীহ মানুষকে ফাঁসানোর মতো ভিত্তিহীন আলাপচারিতা দেখানো হয়েছে, যা মূলত ‘ঋধশব ঈযধঃ অঢ়ঢ়‘ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। পরবর্তীতে ‘গফ ঔড়ুহঁষ অনবফরহ‘ নামক আইডি থেকেও একই ধরনের বিভ্রান্তিকর পোস্ট শেয়ার করা হয়।
ঘটনাটি আরও জটিল রূপ নেয় যখন গত ৬ মার্চ সকালে এসআই শাহিন মিয়ার ব্যক্তিগত নাম্বারে অজ্ঞাত উৎস থেকে ১০,০০০ টাকা (বিকাশ রেমিট্যান্স হিসেবে) পাঠিয়ে স্ক্রিনশট নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এর কিছুক্ষণ পরই একটি বিদেশি নাম্বার (+৬০১০–৪৩১২২৫৪) থেকে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এসব ঘটনায় দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং– ১৭০, তারিখ: ০৬/০৩/২০২৬) করা হয়েছে। দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হিলাল উদ্দিন আহমদ বলেন, হত্যা মামলার তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে এবং অপরাধীদের বাঁচাতে যারা পুলিশের বিরুদ্ধে ডিজিটাল অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। ভুয়া চ্যাটলিস্ট তৈরি ও হুমকির সাথে জড়িত প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। মূল হত্যাকারী এবং তাদের মদদদাতাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।












