রাঙ্গুনিয়ায় মাঠজুড়ে শীতকালীন সবজি, যাচ্ছে সারা দেশে

জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া | শনিবার , ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৬:২৯ পূর্বাহ্ণ

রাঙ্গুনিয়ায় শীতকালীন সবজির চাষ এবার ব্যাপক সফলতা পেয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন উর্বর বিলের জমিতে কৃষকরা শিম, আলু, ফুলকপি, মুলা, বেগুন, টমেটো, মরিচসহ নানা প্রকার সবজি উৎপাদন করেছেন। কৃষি অফিসের পরামর্শে অধিকাংশ সবজি নিরাপদ জৈব পদ্ধতিতে চাষ হওয়ায় এবার বাজারে বিষমুক্ত সবজি পাওয়া যাচ্ছে। ফসলের ফলনও সন্তোষজনক, এমনকি স্থানীয় চাহিদা ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হচ্ছে। তবে কিছু সবজির ভালো উৎপাদন হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় কিছু কৃষক হতাশার সম্মুখীন হয়েছেন।

জানা যায়, কর্ণফুলী ও ইছামতী নদী এবং পাহাড়বেষ্টিত হওয়ায় রাঙ্গুনিয়ায় প্রচুর সবজি উৎপাদিত হয়। উপজেলার প্রায় ৩৬ হাজার কৃষক সবজি চাষের সঙ্গে যুক্ত, যার মধ্যে প্রায় ৯ হাজার নারী কৃষাণী রয়েছেন। কীটনাশক ও রাসায়নিক সার এড়িয়ে জৈব সার এবং মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় এবং পোকা দমনের জন্য সেক্সফেরোমন ফাঁদসহ বিভিন্ন নিরাপদ পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়। এর ফলে এখানকার উৎপাদিত সবজির দেশজুড়ে বেশ কদর রয়েছে।

তবে এবারও সবজির বাম্পার ফলন হলেও অনেক ক্ষেত্রেই কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। বিশেষ করে ফুলকপি ও মুলার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়া নিয়ে কৃষকরা হতাশা প্রকাশ করেছেন।

সরেজমিনে উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের নারিশ্চা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রেনুয়ারা বেগম নামে চল্লিশোর্ধ্ব এক কৃষাণী ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন নিজের ফ্রান্সবিনের ক্ষেতে। আমন ধান ঘরে তোলার পর এবার তিনি ৬ কানি জমিতে নানা প্রজাতির সবজি চাষ করেছেন। এর মধ্যে ১৬ শতক জমিতে ফ্রান্সবিনের আবাদ করেছেন। এছাড়া বাকি জমিতে লাউ, মরিচ, পেলন, পেঁয়াজ, বাদাম, বেগুন, বাঁধাকপি, ফুলকপিসহ নানা প্রজাতির সবজি চাষ করেছেন। তিনি জানান, এসব সবজি বাজারজাত করে ভালোই উপার্জন হয়েছে।

উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, ইউনিয়নের বিভিন্ন ব্লকে কৃষকরা সবজি আবাদে মালচিং পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন। টমেটো, মরিচ, বেগুনসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত বিশেষ পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে। এর ভিতর দিয়ে সবজিগাছগুলো সুন্দরভাবে বেড়ে উঠেছে। পুরো মাঠজুড়ে অত্যন্ত পরিপাটি সবজি ক্ষেতগুলোতে দেখা যায় না বিনা চাষে জন্মানো ঘাস বা আগাছা।

ফলন আসা পাশের বেগুন ক্ষেতের মাঝখানে দেখা গেছে প্লাস্টিক বক্স, যার সাহায্যে বসানো হয়েছে সেক্সফেরোমন ফাঁদ। এর মাধ্যমে ক্ষেতের ক্ষতিকর পোকামাকড় দমন করা হয়েছে। কৃষকরা জানান, এসব ক্ষেতে সার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে জৈব সার ও কেঁচো সার।

অন্যদিকে পৌরসভার ঘাটচেকে গিয়ে দেখা যায়, ইছামতী, কর্ণফুলী নদী এবং ইছাখালী খাল দ্বারা তিন দিক থেকে ঘেরা গ্রামটি। গ্রামের ইছামতী ও দক্ষিণের চরে সবজি চাষে বিপ্লব ঘটিয়েছেন শত শত কৃষক। এখানে উৎপাদিত সবজি রাঙ্গুনিয়া ছাড়িয়ে সারা দেশের বিভিন্ন বড় বাজারে পাঠানো হয়।

তিন ফসলি এই জমিতে সবজি চাষ করে কৃষকরা নিজেরাও স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং পাশাপাশি শত শত শ্রমিকের কর্মসংস্থানও নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে গ্রামটি ‘সবুজ সবজি গ্রাম’ নামে খ্যাতি পেয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস জানান, অনুকূল পরিবেশ এবং কৃষি অফিসের তদারকির কারণে এবার শীতকালীন সবজির চাষ বেশ ভালো হয়েছে। অনেক কৃষক আগাম সবজি চাষ করে ভালো লাভ করছেন। উৎপাদিত সবজি বিভিন্ন বাজার থেকে অথবা অনেকক্ষেত্রে সরাসরি জমি থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বেপারীরা। এভাবেই রাঙ্গুনিয়ায় উৎপাদিত সবজি সারা দেশে পৌঁছে যাচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধক্লিন সিটি গড়তে চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে
পরবর্তী নিবন্ধসাইবার লিটারেসি ও সাইবার সিকিউরিটি