রাঙ্গুনিয়ায় বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম–কাপ্তাই সড়ক প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ ঘটনায় উচ্ছেদ হওয়া পরিবারের দুই নারী ও বন বিভাগের এক কর্মকর্তা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার চন্দ্রঘোনা সেগুনবাগান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমাধানের আশ্বাস দেওয়ার পর অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনকারীরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের রাঙ্গুনিয়া রেঞ্জের কোদালা বিটের সেগুনবাগান এলাকায় দুটি টিনের বসতঘর উচ্ছেদ করতে যান বনকর্মীরা। রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মেহেরাজ হোসেনের নেতৃত্বে এ অভিযান চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আগাম নোটিশ ছাড়াই বসতঘর ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাট করা হয়েছে। এতে বাধা দিতে গেলে বনকর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় নারীদের ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতি হয়। এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম–কাপ্তাই সড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের।
সেগুনবাগানের বাসিন্দা আয়েশা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে পরিবার–পরিজন নিয়ে এখানে বসবাস করে আসছি। বন বিভাগের লোকজন হঠাৎ কোনো নোটিশ ছাড়াই বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। বাধা দিলে তারা লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা করে। এতে আমাদের দুজন নারী আহত হন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাফফর চৌধুরী। তিনি বলেন, উচ্ছেদ অভিযানের প্রতিবাদেই স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কে নেমেছেন। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী ঘটনার সুষ্ঠু সমাধানের আশ্বাস দেন। এরপর আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
অন্যদিকে বন বিভাগের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে সরকারি কাজে বাধা ও হামলা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। কোদালা বিট কর্মকর্তা মো. খোন্দকার মাহাবুব বলেন, শেখ রাসেল অ্যাভিয়ারি অ্যান্ড ইকো পার্কের পার্কিং এলাকার জন্য চিহ্নিত স্থানে গড়ে ওঠা দুটি অবৈধ স্থাপনা সরাতে রেঞ্জ কর্মকর্তার নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। এ সময় উচ্ছেদকাজে বাধা দিয়ে স্থানীয়রা আমাদের ওপর হামলা চালায়। তিনি আরও বলেন, হামলায় রেঞ্জ কর্মকর্তা মেহেরাজ হোসেন আহত হলে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেঙে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহির উদ্দিন বলেন, বসতবাড়ি উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসী সড়ক অবরোধ করেছিলেন। পরে প্রশাসনিক সমঝোতা ও সমাধানের আশ্বাসে তারা সড়ক ছেড়ে দেন। এতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।












