রাঙ্গুনিয়ার ৯২টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৫টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৭টি অধিক গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিতে। আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে এভাবে কেন্দ্রগুলোকে চিহ্নিত করেছে আইন–শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ভৌগলিক দুর্গমতা, পূর্বের সহিংসতার ইতিহাস এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা বিবেচনায় এসব কেন্দ্রে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
জানা যায়, রাঙ্গুনিয়ায় এবার বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ এবং ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মনোনীত আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সাধারণ কেন্দ্রের তুলনায় দ্বিগুণ পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবে। প্রশাসনের নজরদারি বাড়াতে কেন্দ্রের পাশাপাশি আশপাশের এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এছাড়া সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাবের মোবাইল টিম টহলে থাকবেন এবং ভ্রাম্যমাণ এঙিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে রয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজানগর, ইসলামপুর, কোদালা ও পদুয়াসহ কয়েকটি ইউনিয়নের পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকাগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে রয়েছে কোদালা ইউনিয়নের কোদালা উচ্চ বিদ্যালয় ও কোদালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, পূর্ব কোদালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, সন্দ্বীপাড়া হাজী রহম আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, পদুয়া ইউনিয়নের সারাশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, পশ্চিম খুরুশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দ্বারিকোপ উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র, সুখবিলাস উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র এবং সরফভাটা ইউনিয়নের সরফভাটা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জাকিয়া হোসনাইনের তথ্যমতে, রাঙ্গুনিয়া ১৫ ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। ভোটার তিন লাখ ১৯ হাজার ৮ জন। পুরুষ ভোটার এক লাখ ৬৭ হাজার ৫৩১, নারী ভোটার এক লাখ ৫১ হাজার ৪৭৬, হিজরা একজন। ভোটকেন্দ্র ৯২টি, স্থায়ী কক্ষ ৫৬৮, অস্থায়ী ৪২।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে রাঙ্গুনিয়ায় ২০ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া সেনাবাহিনী বিভিন্ন ইউনিয়নে নিয়মিত টহল দিচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত সব বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য বলা হয়েছে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের লক্ষ্যে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সাধারণ কেন্দ্রের তুলনায় দ্বিগুণ পুলিশ ও আনসার মোতায়েন করা হচ্ছে। পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিজিবি ও র্যাবের মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক টহলে থাকবে।












