রাঙ্গুনিয়ায় পতিত জমিতে ‘ভুট্টার বিপ্লব’

জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া | শনিবার , ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ

যে জমিতে এক সময় সেচের অভাবে বোরো চাষ ছিল দুঃসাধ্য, সেখানে এখন বাতাসে দোল খাচ্ছে হলদে সোনালি ভুট্টা। অসাধ্যকে সাধন করে সফলতার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার কৃষকরা। উপজেলার ধূসর ও পতিত জমিতে এখন চলছে ভুট্টার নীরব বিপ্লব। কম পরিশ্রম, নামমাত্র রোগবালাই আর আকাশছোঁয়া লাভের হাতছানিতে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা। বিশেষ করে উপজেলার মরিয়মনগর, পোমরা ও পদুয়াসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে ভুট্টার বাম্পার ফলন এখন সবার নজর কাড়ছে।

মরিয়মনগর ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দিগন্ত বিস্তৃত ভুট্টার ক্ষেত। কৃষক মোহাম্মদ নূর উদ্দীন তার ৩.৬৩ বিঘা (১২০ শতক) উঁচু জমিতে এবার ভুট্টার আবাদ করেছেন। নূর উদ্দীন জানান, আগে এই জমি পানির অভাবে পতিত পড়ে থাকত। বোরো চাষ করলে যেখানে ৭৫ হাজার টাকা খরচ করে মাত্র ৯০ হাজার টাকা পাওয়া যেত, সেখানে এবার মাত্র ৮০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করে আমি ৫ লাখ টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছি।

তার হিসেবে, এবার তিন কানি জমিতে প্রায় ৬০ হাজার চারা লাগিয়েছেন তিনি। প্রতিটি গাছে গড়ে ২টি করে মোচা ধরলে ১ লক্ষ ২০ হাজারের মতো ফলন পাওয়া সম্ভব। বাজারে প্রতিটি কাঁচা মোচা পাইকারি ৫ টাকা এবং খুচরা ১৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। ইতিমধ্যে পাইকারি ব্যবসায়ীরা জমি থেকেই ফসল কিনে নেওয়ার জন্য যোগাযোগ শুরু করেছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর রাঙ্গুনিয়ায় মোট ৫৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে, যা গত দুই বছরের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রসারে সরকারিভাবে ১০টি প্রদর্শনী প্লটে উন্নত মানের বীজ ও সার সরবরাহ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, সরকারি প্রকল্প থেকে উপজেলার বিভিন্ন কৃষক গ্রুপের মাঝে ভুট্টা মাড়ানোর মেশিনও দেওয়া হয়েছে, যা দিয়ে তারা নিজেদের পাশাপাশি এলাকার অন্য কৃষকদেরও সেবা দিচ্ছেন।

পোমরা ইউনিয়নের মালিরহাটের ডেইরি খামারী আব্দুস সালাম ও কৃষক রবিন দে জানান, ভুট্টার বহুমুখী ব্যবহারই এর জনপ্রিয়তার মূল কারণ। সালাম তার নিজের খামারের গোখাদ্যের চাহিদা মেটাতে ৬ কানি জমিতে ভুট্টা আবাদ করেছেন। তারা জানান, ভুট্টার গাছ ও দানা গবাদি পশুর আদর্শ খাবার। ধানের তুলনায় অত্যন্ত কম সেচ ও পরিশ্রমে এটি চাষ করা যায়। মানুষের খাবার (সিদ্ধ বা পোড়া ভুট্টা) ও পাখির খাবার হিসেবে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা উত্তম কুমার জানান, বীজ বপনের পর থেকে পর্যায়ক্রমে চারবার সেচ এবং সঠিক সময়ে ছত্রাকনাশক ও কীটনাশক ব্যবহার করলে অল্প পরিশ্রমে খরচের দ্বিগুণ আয় করা সম্ভব।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস বলেন, শুরুতে কৃষকরা আগ্রহী না হলেও এখন লাভ দেখে তারা স্বপ্রণোদিত হয়ে ভুট্টা চাষে ঝুঁকছেন। কৃষি অফিস থেকে আমরা প্রণোদনা ও প্রদর্শনীর মাধ্যমে তাদের সার্বিক কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম ল এন্ড ল ফ্রেন্ডস এর ইফতার মাহফিল
পরবর্তী নিবন্ধআমের মুকুলে ছেয়ে গেছে বান্দরবানের পাহাড়