ধানের বাজারে মন্দা থাকলেও মুখে হাসি রাঙ্গুনিয়ার মরিয়মনগর ইউনিয়নের কৃষকদের। যেখানে সাধারণ ধান বিক্রি করে অনেক সময় উৎপাদন খরচ তোলা দায় হয়ে পড়ে, সেখানে বীজ ধান উৎপাদন করে আয়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন এখানকার চাষিরা। উন্নত মানের ধান বীজ উৎপাদন ও বিতরণে মরিয়মনগর এখন কৃষি বিভাগে একটি ‘মডেল ইউনিয়ন’ হিসেবে স্বীকৃত।
মরিয়মনগরের কৃষকদের এই সাফল্যের মূলে রয়েছে সাধারণ ধানের পরিবর্তে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য মানসম্পন্ন ‘বীজ ধান’ উৎপাদন।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, খাওয়ার জন্য ধান প্রতি টন বিক্রি হয় ২৫,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকায়। আর উৎপাদিত বীজ ধান প্রতি কেজি ৪৯ থেকে ৫০ টাকা দরে প্রতি টন বিক্রি হচ্ছে ৪৯,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকায়। অর্থাৎ, সাধারণ ধান চাষিদের তুলনায় বীজ উৎপাদনকারীরা টনপ্রতি প্রায় ২০ হাজার টাকা বেশি আয় করছেন। ফলে বাজারে ধানের দাম কম থাকলেও এই কৃষকদের লোকসানের কোনো ভয় থাকে না। এলাকার মো. মোকাররম, মো. সিরাজুল ইসলাম এবং মো. নুর উদ্দীন–এই তিন কৃষক এখন দেশের বৃহত্তম বীজ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিএডিসি এর তালিকাভুক্ত ‘কন্টাক্ট ফার্মার’ বা চুক্তিভিত্তিক চাষি। প্রতি বছর তারা সম্মিলিতভাবে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ মেট্রিক টন উন্নত মানের ধান বীজ উৎপাদন করছেন। তাদের উৎপাদিত বীজ এখন দেশের কৃষিশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
কৃষকদের এই সাফল্যের কারিগর হিসেবে কাজ করছেন স্থানীয় উপ–সহকারী কৃষি কর্মকর্তা উত্তম কুমার শীল। তাঁর হাত ধরেই এলাকার কৃষকদের বীজ উৎপাদনে হাতেখড়ি। আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক রোপণ পদ্ধতির পরামর্শ দিয়ে তিনি সাধারণ কৃষকদের দক্ষ বীজ উৎপাদকে পরিণত করেছেন। সাফল্য সম্পর্কে কৃষক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, এবার আমি ৪০ কানি জমিতে বোরো চাষ করেছি, যার মধ্যে ২০ টন বীজ বিএডিসিকে দেবো। এছাড়া ১০ কানি জমিতে স্থানীয় উন্নত জাতের ‘কাটারী‘ ধান চাষ করেছি বেসরকারি কোম্পানির জন্য। কৃষি কর্মকর্তা উত্তম কুমার শীল দাদার পরামর্শে চাষাবাদ শুরু করার পর থেকে আল্লাহর রহমতে আমি কখনো লস খাইনি, প্রতিবারই লাভবান হয়েছি। কৃষি সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সঠিক কারিগরি সহায়তা পেলে মরিয়মনগরের মতো রাঙ্গুনিয়া তথা দেশের প্রতিটি ইউনিয়নই বীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, যা জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ভূমিকা রাখবে। এই ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস বলেন, মরিয়মনগরের এই সাফল্য দেখে এখন আশপাশের অনেক কৃষকই বীজ উৎপাদনে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। আমরা তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সার্বিক সহায়তা করে যাচ্ছি।











