রাঙামাটিতে ৫ দিনব্যাপী বিজু মেলা শুরু

পাহাড়জুড়ে উৎসবের আমেজ

রাঙামাটি প্রতিনিধি | মঙ্গলবার , ৭ এপ্রিল, ২০২৬ at ১০:৫২ পূর্বাহ্ণ

পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীদের প্রধান সামাজিক উৎসব বিজু, বৈসু, সাংগ্রাই, বিহু, চাংত্রাণ, বিষু, সাংলান, চাংত্রাই, পাতা২০২৬ উপলক্ষে পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতে ৫ দিনব্যাপী মেলা শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে গতকাল সোমবার বিকেলে রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যৌথ আয়োজনে রাঙামাটি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি। স্থানীয়ভাবে, এই মেলা ‘বিজু মেলা’ হিসেবে পরিচিত।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) অনুপ কুমার চাকমা, সেনাবাহিনীর রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, রাঙামাটি জেলাপ্রশাসক নাজমা আশরাফী, রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট রাঙামাটি পরিচালক জিতেন চাকমাসহ আরও অনেকে।

মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম যদি পিছিয়ে থাকে, তবে সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন যে, পাহাড় কিংবা সমতলকোনো জায়গাতেই বৈষম্য থাকবে না। কাজেই আমাদের সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হবে। মন্ত্রী বলেন, আমরা প্রত্যেক বছর অপেক্ষা করি এই বিজু উৎসবের জন্য। এই বিজু উৎসবের মধ্য দিয়ে আমরা সকলেই এক মিলন মেলায় পরিণত হই; সেই মিলন মেলা আমাদের ঐতিহ্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়। আমাদের এই ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করতে হবে।

জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, বিজু উৎসবের মাধ্যমে এদেশে বহু জাতি, বহু সংস্কৃতিতে আমরা দেশ ও সারা বিশ্বের কাছের তুলে ধরতে পারব। আমরা সকলেই উৎসবমুখর পরিবেশে এই উৎসব পালন করব। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার বলেন, এই বিজু মেলার মাধ্যমে আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতিকে জাতির কাছে তুলে ধরা। আমাদের সংস্কৃতি যত উন্নত হবে, আমরা তত এগিয়ে যাব।

সভা শেষে গরিয়া নৃত্য, বাঁশ খরম দিয়ে হাঁটা, ঘিলা খেলা, লাটিম খেলা, পাজন রান্না প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এছাড়া সন্ধ্যায় আয়োজন করা হয়েছে ম্রো সমপ্রদায়ের নাটক রিনাফ্লুং ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। মেলার আয়োজকরা জানিয়েছেন, ৫ দিনব্যাপী মেলা চলবে ৬ এপ্রিল থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত। এবারের মেলায় পাহাড়ি জাতিগোষ্ঠীদের বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পোশাক, অলংকার, খাবারসহ নিয়ে মোট ১০০টি স্টল বসছে।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ এপ্রিল থেকে পাহাড়ে শুরু হবে বর্ষবরণের মূল আনুষ্ঠানিকতা। উৎসবের প্রথম দিন ১২ এপ্রিল চাকমাদের ফুল বিজু ও ত্রিপুরাদের হারি বৈসু। এদিন ভোরের আলো ফুটতেই গঙ্গা দেবীর উদ্দেশে নদীর পাড়ে ফুল নিবেদন করবেন সংশ্লিষ্ট নৃগোষ্ঠীর মানুষ। ১৩ এপ্রিল চাকমাদের মূল বিজু আর ত্রিপুরাদের বৈসু মা; এদিন প্রতিটি ঘরে ঘরে চলবে ঐতিহ্যবাহী পাজন (নানা পদের সবজির মিশ্রণ) দিয়ে আপ্যায়ন ও আতিথেয়তা।

১৪ এপ্রিল নতুন বছর বা নববর্ষের দিনে পালিত হবে চাকমাদের গোজ্যেপোজ্যে দিন আর ত্রিপুরাদের বিসিকাতাল। উৎসবের সবশেষে মারমাদের সাংগ্রাই জল উৎসব। বর্ষবরণের এই বর্ণিল আয়োজনকে ঘিরে ইতোমধ্যে তিন পার্বত্য জেলার পাড়ায় পাড়ায় পাহাড়ের তরুণতরুণীদের মাঝে উৎসবের ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পাহাড়ের সর্বত্রই এখন সাজ সাজ রব আর খুশির আমেজ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচট্টগ্রামে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৩২ শিশু
পরবর্তী নিবন্ধএক বছর আগের মামলায় নারী গ্রেপ্তার, তার তথ্যে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৪