সারা দেশের মতো পার্বত্য জেলা রাঙামাটিতেও উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ভোটের দিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ভোট কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলায় জাল ভোট দিতে গিয়ে আটক হয়েছে ১৬ জন। তাদের কাউকে জরিমানা, আবার কাউকে নিয়মিত মামলা করে জেলে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাঙামাটি জেলা শহরের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সরেজমিনে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষত পাহাড়ি এলাকার ভোট কেন্দ্রগুলোতে নারী–পুরুষের উপস্থিতি ছিল ব্যাপক। এদিন সকালে জেলা শহরের কাঠালতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র এবং রানী দয়াময়ী উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন রাঙামাটির রিটার্নিং কর্মকর্তা নাজমা আশরাফী। একই সঙ্গে এ আসনের প্রার্থীরা নিজ নিজ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছেন।
এদিকে, রাঙামাটির তরুণ ভোটার রয়েল চাকমা বলেন, সুন্দর পরিবেশে ভোট দিয়েছি। নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছি। ভোট দিতে কোনো ঝামেলা হয়নি। নতুন ভোটার উজ্জ্বল চাকমা বলেন, প্রথম ভোট দিতে পেরে খুব ভালো লেগেছে। এটাই আমার ভোট দেওয়ার প্রথম অভিজ্ঞতা।
অন্যদিকে, দুপুর ১২টায় সাপছড়ি ইউনিয়নের শুকুরছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা গেছে ভোটারদের দীর্ঘ সারি। কেন্দ্রটিতে মোট ভোটার ১ হাজার ৯৪ জন, ১২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে ৩৪০। ভোটের সংখ্যা ৩১ শতাংশ। ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩১ শতাংশ ভোটগ্রহণ হয়েছে।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নানিয়ারচর উপজেলার ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের হাজাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, ভোটারদের কোনো সারি না থাকলেও ভোটাররা এসেই ভোটকক্ষে প্রবেশ করছেন। যাবতীয় কার্যক্রম শেষে ভোট প্রদান করছেন। এই কেন্দ্রে ৩ হাজার ১৩৯ জন ভোটার থাকলেও দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ভোট পড়ে ১ হাজার ৩৩৫ টি। যা মোট ভোটের ৪২ শতাংশ।
এদিকে, পাহাড়ি এলাকার কেন্দ্রগুলোতে ধানের শীষ ও ফুটবল প্রতীকের প্রার্থী ছাড়া বাকিদের পোলিং এজেন্ট কয়েকটি কেন্দ্র ছাড়া তেমন ছিল না। সন্ধ্যা ৬ টায় রাঙামাটি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের কন্ট্রোল রুম থেকে দেওয়া তথ্য মতে, ২৯৯ রাঙামাটি আসনের ১০টি উপজেলার ভোট গ্রহণ হয়েছে ৫৪.০৭% (পোস্টাল ভোট ব্যতীত)।
জেলা প্রশাসন সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, জেলা সদরের পুরানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জালভোট দিতে গেলে একজনকে, কাউখালী উপজেলার ঘাগড়ায় আরটিএম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্রে দুপুরে একজনসহ জেলার ১০ উপজেলায় ১৬ জনকে জাল ভোট দিতে গেলে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের মধ্যে কয়েকজনকে নাবালক হওয়ায় জরিমানা করে ছেড়ে দেওয়া হয়, বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত শারমিন জানিয়েছেন, সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ঘটনার খবর পাইনি। তবে জাল ভোট দিতে আসার অভিযোগে ১৬ জনকে আটক করা হয়েছে। যাদের কাউকে কাউকে জেল এবং কাউকে কাউকে জরিমানা করা হয়েছে। এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
জেলার সর্বশেষ ভোটের পরিস্থিতি জানতে চাইলে রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, ভোটের পরিবেশ খুব ভালো ছিল। ভোট কেন্দ্রে কোনো অপ্রতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে দুয়েকটা কেন্দ্রে কয়েকজন জাল ভোট দিয়ে গিয়ে তল্লাশি করার সময় ধরা পড়েছিল। এর বাইরে পুরো শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।












