রাউজানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ পাহাড়, কৃষি জমি থেকে মাটি কাটা, বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছেন কয়েক মাস আগে থেকে। তিনি শুরু থেকে এসব অপকর্মে জড়িতদের প্রতি সতর্কবার্তা দেয়ার পাশাপাশি প্রশাসনের প্রতিও অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন যেন প্রশাসন এসব অপকর্মে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়। সর্বশেষ তিনি গতকাল ২৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসাবে উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের সাথে প্রথম মতবিনিময় সভায় রাউজানের সন্ত্রাস, অরাজক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান আবারো পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি দলের হয়ে নির্বাচিত হয়েছি ঠিকই। এখন আমি একক দলের নই। আমি রাউজানের সাড়ে ছয় লক্ষ মানুষের প্রতিনিধি। যারা সন্ত্রাস, অপরাধ কর্মে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন।’
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, আমার মনোনীত প্রতিনিধি ছাড়া যারা আমার নাম ভাঙিয়ে তদবির করতে আসবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবেন। অতীতে বহু ধরনের দুর্নীতি হয়েছে। কাজ না করে ঠিকাদার বিল নিয়েছে। যেসব ঠিকাদার এই ধরনের কাজ করেছে তাদের কালো তালিকাভুক্ত করুন।
সংসদ সদস্যের অতীত, বর্তমান সময়ের কঠোর অবস্থান ও প্রশাসনের ভূমিকা প্রসঙ্গে স্থানীয় জনসাধারণ বলেন, নির্বাচনের আগে থেকে খুন সন্ত্রাসসহ সকল অপকর্মে লিপ্তদের বিরুদ্ধে সংসদ সদস্যের হুঁশিয়ারি বার্তা ছিল। প্রশাসনের প্রতি রাউজানের অরাজক পরিস্থিতি বন্ধের অনুরোধ ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত তার দেয়া কোনো নির্দেশনা ও প্রশাসনের সফল বাস্তবায়ন এলাকার মানুষ দেখেননি। নির্বাচনের আগে ও পরে ঘটে যাওয়া গোলাগুলি, খুনের ঘটনা তার প্রমাণ। চলমান আছে পাহাড়, টিলা কাটা ও কৃষি জমির টপ সয়েল বিক্রির কাজ।
স্থানীয় জনসাধারণ ও গোয়েন্দা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ২৪ সালের পাঁচ আগস্টের পর থেকে রাউজানে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের উৎপাত ব্যাপক হারে বেড়েছে। দল উপদলে বিভক্ত সন্ত্রাসীরা একে অপরের বিরুদ্ধে প্রকশ্যে বন্দুক যুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছে। অতর্কিতে হামলা চালিয়ে খুন করে যাচ্ছে প্রতিপক্ষের কোনো একজনকে। সূত্র মতে এই উপজেলার বেশির ভাগ খুনের ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাটি–বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে এসব অপরাধ কর্মে যারা জড়িত তারা প্রায় সকলেই বিএনপির নেতাকর্মী পরিচয়ধারী। ধারাবাহিক ভাবে চলে আসা খুনের ঘটনা প্রবাহের দিকে দৃষ্টি দিলে দেখা যায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে এই পর্যন্ত খুন হয়েছে মোট ২০টি।
সর্বশেষ ২৫ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় খুনের তালিকায় যোগ হয়েছে উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট এলাকার যুবদল কর্মী মুজিব। অভিযোগ রয়েছে খুনের ঘটনায় মামলা হলেও অধিকাংশ আসামি এখনো ধরাছোয়ার বাইরে।












