রাউজানে প্রকাশ্যে গুলি করে মুজিব ভান্ডারী (৬০) নামের এক যুবদল কর্মীকে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল বুধবার ইফতারের পর নিহতের বাড়ি থেকে মাত্র দেড় শত গজ দূরে অলিমিয়াহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মুজিব ওই এলাকার মৃত আবদুল মোনাফের ছেলে ও দুই সন্তানের জনক। মুজিব ভান্ডারী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপির অনুসারী বলে জানা যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মুজিব ইফতারের পর ফলের দোকানের সামনে বসেছিল। এসময় হঠাৎ দুজন দুর্বৃত্ত এসে একজন সেখানে কানে ফোনে লাগিয়ে দাঁড়ায়। অন্য একজন অস্ত্র বের করে কিছু বুঝে উঠার আগে তাকে লক্ষ্য করে পর পর পাঁচটি গুলি করে হেঁটে দ্রুত গতিতে তার বাড়ির সামনে দিয়ে চলে যায়। মুজিবের মাথা ও বুকে গুলি লেগে ঘটনাস্থলে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে যান। পরে এলাকার লোকজন তাকে উদ্ধার করে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আরো জানা যায়, অলিমিয়াহাট খালের উভয় পার্শ্বের দুই ছেলে মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে চাপা উত্তেজনা চলছিল। এই ঘটনা নিয়ে উভয় পরিবারের মধ্যে দফায় দফায় শালিসি বৈঠক চলছিল। সর্বশেষ বৈঠকটি হয় গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর। এই বৈঠকে মধ্যস্থতার ভূমিকায় ছিলেন মুজিব। এই নিয়ে তার সাথে এক পক্ষের কথাকাটাকাটি হয়েছিল। গতকাল বিকালেও অলিমিয়াহাটে আরেক দফায় কথাকাটাকাটি হয়েছিল মুজিবের সাথে। সর্বশেষ এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে।
নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মুজিবের মা রাবেয়া বেগম ঘরের বারান্দায় বসে কান্না করছেন। নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই বিষয়ে উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি সাবের সুলতান কাজল বলেন, মুজিব যুবদলের একজন ত্যাগী কর্মী। ফ্যাসিস্ট সরকারের মদদপুষ্ট কিছু কিশোর গ্যাং এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে রাউজানকে অস্থিতিশীল করার মিশনে নেমেছে। গতকাল রাত আটটার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন, ওসি সাজেদুল ইসলাম। দুই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সালিশি বৈঠকের জের ধরে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়। স্থানীয় জনসাধারণ ও এলাকায় থাকা সিসি ক্যামরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার রহস্য উদঘাটনে চেষ্টা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য যে, গত ৫ জানুয়ারি আলিমিয়াহাট হাট থেকে ৭ শত মিটার দূরে জানে আলম নামের একজনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। সেই ঘটনায় কোনো খুনি এখনো ধরা পড়েনি। গত বছরের পাঁচ আগস্টের পর থেকে এই উপজেলায় খুনের ঘটনা ঘটেছে ১৮টি।









