সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতি কঠোর বার্তা দিলেন চট্টগ্রাম–৬ রাউজান আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। তিনি শপথ নিয়ে নিজ এলাকায় ফিরে জনসাধারণের উদ্দেশ্যে নিজের এক গুচ্ছ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। একই সাথে কঠোর বার্তা দেন এলাকার অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে। বলেন, রাউজানে আর অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখতে চাই না। সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। যেকোনো মূল্যে রাউজান থেকে সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূল করা হবে।
তিনি বলেন, গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে রাউজানে যেসব খুনাখুনির ঘটনা ঘটেছে সেসব খুন–সন্ত্রাসীর ঘটনায় কারা জড়িত সবকিছু আইন–শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী জানে। আমি শুরু থেকে সন্ত্রাস খুনের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন ও আইন শৃক্সখলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ জানিয়ে আসছি। তার অভিযোগ, এতদিন তারা কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। এখন অনুরোধ নয় তাদের বলব, যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত তাদের ধরতে হবে। মাদক কারবারীদের ঘাঁটি ভেঙে দিয়ে রাউজান থেকে উচ্ছেদ করতে হবে। যারা অপরাধে জড়িত তাদের অনেককেই আপনারা চিনেন, প্রয়োজনে আমার সহযোগিতা নেন। আমি সহযোগিতা করব।
গতকাল শুক্রবার সকালে সংসদ সদস্য গিয়াস কাদের রাউজানের নিজ বাড়িতে এসে পৌঁছলে দলীয় নেতাকর্মীসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ ফুল হাতে তাকে স্বাগত জানান। তিনি প্রথমে পারিবারিক কবরস্থানে গিয়ে মা–বাবাসহ মুরব্বিদের কবর জেয়ারত করেন। পরে শুভেচ্ছা জানাতে আসা দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় করেন। এসময় তিনি বলেন, সারাদেশে বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের সাথে নিজেকে শামিল করতে পারায় মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোরে উঠে রাউজানের সকল ধর্ম–বর্ণের মানুষ যেভাবে কেন্দ্রে গিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট দিতে কষ্ট করেছেন, আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞ।
রাউজানকে নিয়ে নিজের এক গুচ্ছ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সন্ত্রাস, মাদক নির্মূল করতে আমাকে যতই কঠোর হতে হয়, হব। রাউজানের বদনাম মুছে রাউজানবাসীকে কলঙ্কমুক্ত করব ইনশাআল্লাহ। তিনি নিজের এক গুচ্ছ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে বলেন, গত ১৭ বছরে রাজনীতির নামে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দলীয় ক্যাডারে পরিণত করেছে। পরিস্থিতির শিকার হাজার হাজার শিক্ষার্থী নিজেদের বিকাশ ঘটাতে পারেনি। এর প্রভাব স্কুল পর্যায়ে এসেও পড়েছে। এখন রাউজানের শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে উদ্যোগ নেয়া হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের শৃক্সখলা ফিরিয়ে আনতে হবে।
প্রশাসনিক কাজে উপজেলার দক্ষিণাংশের মানুষের উপজেলায় আসা যাওয়ায় কষ্টের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দক্ষিণ রাউজানের মানুষের কষ্ট লাঘবে দক্ষিণ রাউজানে প্রশাসনিক থানা প্রতিষ্ঠা করা হবে। কর্ণফুলী ও হালদা নদীর ভাঙন কবলিত মানুষের বাড়ি–ঘর, কৃষি জমি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। ১৭ বছর ধরে উন্নয়ন বঞ্চিত রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করা হবে। স্বাস্থ্য খাত ও কৃষিজীবীদের সব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ নেয়া হবে। বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে নানামুখী প্রকল্প হাতে নেয়া হবে।
তিনি বলেন, রাউজানের হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ জনগোষ্ঠী সকলেই আমাদের ভাই। এই উপজেলায় সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আমার থাকবে জিরো টলারেন্স নীতি। আমি চাই রাউজানের সকল সম্প্রদায়ের মানুষ পরস্পরের সাথে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ থাকুন। রাউজানকে শান্তি ও সমৃদ্ধিও জনপদে পরিণত করতে তিনি সকলের প্রতি সহায়তা কামনা করেন।












