রাউজানের সর্তা খালের ভাঙন, আতঙ্কে স্থানীয়রা

মীর আসলাম, রাউজান | শনিবার , ১১ এপ্রিল, ২০২৬ at ১১:২০ পূর্বাহ্ণ

রাউজানের উপর দিয়ে প্রবাহিত সর্তা খালটির বিধ্বংসী ভাঙনে পড়ে গত কয়েক বছরে বহু মানুষ বাড়ি ভিটে হারিয়ে যাযাবর হয়েছে। সমাগত বর্ষার পদধ্বনিতে ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষের ভিটামাটি হারানোর আশংকায় রাতের ঘুম হারাম হচ্ছে বলে জানিয়েছে। এখন ভাঙন শঙ্কায় রয়েছে উপজেলার নোয়াজিশপুর ও চিকদাইর ইউনিয়নের কয়েক শ পরিবার। সর্তা খালটি মূলত দুর্গম পাহাড় থেকে সৃষ্ট। শুষ্ক মৌসুমে এই খালের পানির প্রবাহ না থাকলেও বর্ষার মৌসুমে তীব্রবেগে পানি নামে এই খালের মাধ্যমে। পানির স্রোতের তীব্রতায় খালের গর্ভে বিলিন হয় একর পর এক বাড়িঘর, কৃষি জমি।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, পানির বিধ্বংসী স্রোতে খালটি একদিকে ভাঙতে শুরু করে। গত দুই দশকের ভাঙনে এই খালের পানির প্রবাহ পথ পরিবর্তন হয়। মূল খালের জায়গায় বিশাল চর জেগে এখন নোয়াজিশপুরের মিলন মাস্টারের বাড়িসহ ওই এলাকার একটি গ্রাম সম্পূর্ণ নিজ গর্ভে বিলিন করে নেয়। এখন বিশাল বাঁকে আঁকাবাঁকা বাঁ হয়ে এই খাল প্রবাহিত হচ্ছে চিকদাইর বিভিন্ন গ্রামের পাশ দিয়ে। দুটি ইউনিয়নের ভাঙন আতংকে থাকা মানুষ বলেছেন গত দুই দশকে ভাঙনে পড়ে দুটি ইউনিয়নের শতাধিক পরিবার নিজেদের ঘরবাড়ি হারিয়ে যাযাবর হয়েছে। এমন অবস্থা থেকে রক্ষা পেতে তারা খালটির প্রবাহ আগের অবস্থানে ফিরিয়ে দিতে প্রশাসন, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ এলাকার সচেতন মানুষের কাছে আকুতি জানিয়ে আসছেন। তারা মনে করেন জেগে উঠা চরের মধ্যখানে কেটে খালটির প্রবাহ ফিরিয়ে দিলে বহু বছর ধরে মানুষ নিরাপদ থাকবে। সম্প্রতি ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, খালের পাড়ের বাসিন্দারা অত্যন্ত মানবেতন জীবন যাপন করছে। কোনো বাড়ির অর্ধেক খালে ভিতর চলে গেছে। কেউ কেউ রান্না করছে অর্ধেক ধসে যাওয়া রান্না ঘরে বসে। এমন করুন দৃশ্য দেখা গেছে নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের ছয় নাম্বার ওয়ার্ডের পাশ ঘেঁষে প্রবাহিত সর্তা খাল পাড়ে। সেখানে দেখা যায় এই খালটি বিশাল এলাকা জুড়ে ইউটার্ন নিয়ে প্রবাহমান আছে। স্থানীয় প্রবীণরা বলেছেন, দুই যুগে খালটি ছিল বর্তমান অবস্থান থেকে পূর্বদিকে জেগে উঠা চরের তিনশ মিটার দূরে। জেগে উঠার চরের মধ্যখানে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে একজন সমাজ সেবক মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেছেন, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি স্রোতের তীব্রতায় মানুষের বাড়িঘর ভেঙে সর্তা খালটি আগের অবস্থান থেকে পশ্চিমে এসে পড়েছে। তিনি জানিয়েছেন গত দুই দশকে এই এলাকার তিন শতাধিক পরিবার ভাঙনে পড়ে বাড়ি ভিটা হারিয়ে যাযাবর হয়েছে। নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নুরুল হুদা এ প্রসঙ্গে বলেন, বর্ষার মৌসুমে প্রবল স্রোতে এই খালে পাহাড়ি পানি নামতে গিয়ে বিধ্বংসী ভাঙন শুরু হয়। বছরের পর বছর এভাবে ভাঙনের ধারা অব্যাহত থাকায় এই পর্যন্ত এসে পড়েছে। তিনি এলাকাবাসী দাবি সমর্থন করে বলেন চর কেটে খালের প্রবাহ ফিরিয়ে দিতে পারলে দুটি ইউনিয়নে মানুষ ভাঙন থেকে রক্ষা পাবেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাড়ছেই থ্রি হুইলারের দাপট
পরবর্তী নিবন্ধ‘মুসলিম উম্মাহর মূল শক্তি হলো পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব’