বিপিএল শেষ হয়ে গেছে চট্টগ্রাম রয়্যালসের ইংলিশ ব্যাটার অ্যাডাম রসিংটনের। বিনুরা ফার্নান্দোর ডেলিভারি একটু লাফিয়ে ছোবল দিয়েছিল রসিংটনের আঙুলে। ব্যথায় কাতর হয়ে উঠেছিলেন তিনি। মাঠে শুশ্রুষার পর আবার ব্যাটিং চালিয়ে গেছেন তিনি, তবে খুব বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। সেই আঘাত পরে বড় দুঃসংবাদ বয়ে এনেছে তার এবং দলের জন্য। রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে সিলেটে শুক্রবার ব্যাটিংয়ের সময় ওই চোট পান রসিংটন। স্ক্যান রিপোর্টে দেখা গেছে, তার আঙুলের পুরনো চোটটি নতুন করে জটিল আকার ধারণ করেছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে অন্তত দুই সপ্তাহ পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। চট্টগ্রাম রয়্যালসের টিম ডিরেক্টর হাবিবুল বাশার জানান, পুরোনো চোটের জায়গাতেই আবার আঘাত পেয়েছেন এই ব্যাটার। ‘ওই আঘাত পাওয়ার পর যখন ব্যাটিং করছিল, তখনই বুঝতে পারছিলাম যে বড় সমস্যা হয়েছে। অস্বস্তি ছিল তার ব্যাটিংয়ে। পরে বলল যে, ওখানে ওর চোট ছিল আগে থেকেই। সেখানেই লেগেছে আবার, চিড় ধরেছে। কালকে চলে যাবে।’ রসিংটনের ছিটকে পড়া চট্টগ্রামের সম্ভাবনায় বড় আঘাত। দলটি যে এখন পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে, সেটির পেছনে বড় অবদান এই কিপার–ব্যাটারের। প্রথমবার বিপিএল খেলতে এসে এখনও পর্যন্ত আসরের সর্বোচ্চ ২৫৮ রান করেছেন তিনি ৬৫.৫০ গড় ও ১৩৯.৪৫ স্ট্রাইক রেটে। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ স্কোর ৭৩। মোহাম্মদ নাঈম শেখের সঙ্গে গড়ে তুলেছেন কার্যকর এক উদ্বোধনী জুটি। এখনও পর্যন্ত অসাধারণ কিপিংও করেছেন ৩২ বছর বয়সী ক্রিকেটার। এক ম্যাচে চার স্টাম্পিংয়ের রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি মাঠে তার উপস্থিতি ছিল দারুণ প্রাণবন্ত। এমন একজনকে হারিয়ে হাহাকার টিম ডিরেক্টরের কণ্ঠে। ‘আমাদের দলের বড় শক্তির জায়গা ছিল সে। তাকে ঘিরেই আমাদের ব্যাটিং আবর্তিত হতো। এর চেয়েও বড় কথা, খুব ভালো টিমম্যান ছিল সে। দলের সঙ্গে দারুণভাবে মিশে গিয়েছিল। আমাদের জন্য অনেক বড় ক্ষতি ওকে হারানো। ওর বদলি ক্রিকেটার আমরা খুঁজছি।’ সাত ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে আপাতত পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে চট্টগ্রাম। অবশ্য পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে থাকা রংপুরের চেয়ে এক ম্যাচ বেশি খেলেছে চট্টগ্রাম। ৬ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে আছে রংপুর। চট্টগ্রামের পরের ম্যাচ আগামী বৃহস্পতিবার মিরপুরে নোয়াখালীর বিপক্ষে।












