রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ নতুন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ

| সোমবার , ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ৬:৫৯ পূর্বাহ্ণ

বাজার বিশ্লেষকরা বলেন, প্রতিবছরই দেখা যায়, পবিত্র রমজান মাস শুরুর আগে আগে রোজায় বেশি ব্যবহৃত খাদ্যপণ্যগুলোর দাম হু হু করে বেড়ে যায়। অথচ হঠাৎ করে দাম বেড়ে যাওয়ার কোনো বাস্তবভিত্তিক কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রমজান মাস শুরু হওয়ার সপ্তাহ দুয়েক আগে থেকেই ব্যবসায়ীরা প্রায় প্রতিটি জরুরি পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এরই মধ্যে বাজারে লেবুর দাম বেড়ে গেছে কয়েক গুণ। এক মাস আগেও যে লেবুর হালি ছিল ২০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে, সেই একই লেবু এখন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে। বেড়েছে খেজুরসহ কিছু ফলের দাম। ছোলা, পেঁয়াজ, মাছ, মাংস, শাকসবজির দামও সপ্তাহের ব্যবধানে অনেকটাই বাড়তি। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে স্বল্প আয়ের মানুষ।

দেশে মাত্র কয়েকদিন আগে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। সরকারের সামনে নানামুখী চ্যালেঞ্জ। পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা কতটা সক্ষম হবে, তা নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা সন্দিহান। তারপরও আমরা আশাবাদী। যেমন চিরাচরিত নিয়মে রোজার আগে অতি প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যগুলোর দাম বেড়ে গেছে। দাম সহনীয় পর্যায়ে না রাখা গেলে মানুষের, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। অর্থনীতিবিদরা বলেন, আস্থার পরিবেশ তৈরি করা না গেলে বিনিয়োগে গতি আসবে না। বিনিয়োগ না হলে কর্মসংস্থান বাড়বে না। অস্বাভাবিক বেকারত্ব সামাজিক সংকট তৈরি করবে। হামলামামলা আর মব সন্ত্রাসকে শক্ত হাতে দমন করতে হবে। তা না হলে নাগরিক জীবনে সৃষ্ট সংকট ক্রমেই গভীর হবে। জনজীবনে স্বস্তি ফেরাতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নিতে হবে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকারকে সব দিক সামাল দিয়ে চলতে হবে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, তারেক রহমান চরম অস্থির এক সময়ে দেশের দায়িত্বভার কাঁধে নিলেন। তাঁর সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জনমনে নিরাপত্তার বোধ ফিরিয়ে আনা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন। সেই সঙ্গে ভঙ্গুর অর্থনীতিকে টেনে তোলার কাজটিও করতে হবে। ফিরিয়ে আনতে হবে ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থা। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রেখে সাধারণ মানুষের মনে স্বস্তি আনতে হবে। সব মত ও ধর্মের মানুষের নিজ নিজ অবস্থান থেকে কথা বলার ও ধর্মীয় আচার পালন করার স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে।

দুঃখজনক হলেও সত্যি, প্রতি বছরই রমজানকে কেন্দ্র করে বাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধি পায়। তার বিরুদ্ধে প্রশাসনের নজরদারি, অভিযানসহ বিভিন্ন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সে ধারাবাহিকতায় এবারো সে সম্ভাবনা মাথায় রেখে কয়েক মাস আগেই পণ্যগুলোর দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সে হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ইতোপূর্বে নেওয়া পদক্ষেপ কতটুকু কাজে লাগবে সেটি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মূলত রমজান মাসে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেওয়া এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীর অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। সদ্য সাবেক বাণিজ্য উপদেষ্টাও ব্যবসায়ীদের এ ধরনের তৎপরতায় এক ধরনের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছিলেন। রমজান মাসে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ নতুন সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা আশা করি, শুরুতেই সরকার অসাধু সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হবে। সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে মনোযোগী হবে। পণ্য পর্যাপ্ত আছে, এখন প্রয়োজন কেবল সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও কঠোর নজরদারি।

নির্বাচিত সরকারের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা পাহাড় সমান। তাই সরকারকে প্রথম থেকেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার মানসিকতা নিয়ে এগোতে হবে। অর্থনীতি, ব্যাংকিং খাত, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নসহ নানা খাতে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনতে হবে। আমরা আশাবাদী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত সরকার দক্ষতার সঙ্গে সংকট মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে। এ সময়ে বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে জনগণের দুর্ভোগ বাড়বে। এর দায় বর্তাবে সরকারের ওপর। কাজেই বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারকে তৎপর হতে হবে। বাজারে জিনিসপত্রের মূল্যবৃদ্ধির কারণ নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। বাজারের নিয়ন্ত্রণ হারালে অনেক কিছুই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। কাজেই যেকোনো মূল্যে বাজার নিয়ন্ত্রণে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।

পূর্ববর্তী নিবন্ধকৌতুক কণিকা
পরবর্তী নিবন্ধএই দিনে