রমজান মাসে রোজা রাখা শুধু ইবাদত নয় বরং শরীর সুস্থ রাখতে সঠিক খাদ্যাভাস ও সুস্থ ধারার জীবনযাত্রা অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রমজানের পুরো ৩০ দিন সারাদিন না খেয়ে থাকার দরুন ইফতার থেকে সেহেরী খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেহের খাদ্য চাহিদা অর্থাৎ সুষম খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা খুবই জরুরি। রোজার মাসে দেহের খাদ্যের চাহিদা অন্যান্য মাসের মতো একই থাকে। যেহেতু সময়টা পরিবর্তন হয়, তাই খাবারের ধরনের কিছুটা পরিবর্তন করতে হয়, কিন্তু ক্যালরি একই থাকবে খেয়াল রাখতে হবে বয়স, ওজন, বিভিন্ন রোগের রোগীর প্রতি ডায়েট প্ল্যান রোজায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন: পরিবারে টীনএইজ থেকে শুরু করে বয়ঃবৃদ্ধ অনেক সদস্য থাকে। প্রত্যেকের চাহিদা আলাদা থাকে। দেহের ওজন গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। পরিবারে কেউ যদি ওবেসিটিতে ভুগে থাকে এই একমাস তার ডায়েট প্লান সম্পূর্ণ আলাদা হবে।
সবশেষে আসছি বিভিন্ন রোগের কথায়– আজকাল ফ্যাটি লিভারের সমস্যা বেড়ে গেছে, তাদের ক্ষেত্রেও এই মাস খুবই সতর্কতার সাথে ডায়েট প্লান করতে হবে।
ফ্যাটি লিভার ছাড়াও কিডনী রোগী, হৃদরোগী, ডায়বেটিক রোগীর ব্যাপারে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করে। ডায়েট প্লান করতে হবে। এখানে উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে প্রতিটি ঘরে ঘরেই ডায়বেটিক রোগী আছেই। কারন ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ডায়বেটিসে আক্রান্ত। ৫৫% মানুষ জানেইনা তাদের এই রোগটি আছে কি নেই। তাই ভায়বেটিক রোগীর জন্য পুরো রমজান মাসে সুস্থ থাকতে চাইলে আজই আপনার ডায়বেটিস পরীক্ষা করুন এবং জেনে নিন খালি পেটে রক্তের গ্লুকোজের পরিমাণ কত? ভরাপেটে কত? এবং ঐনঅ১প কত? এই রিপোর্ট অবশ্যই আপনার চিকিৎসককে দেখাবেন এবং ঔষধের মাত্রা জেনে নিতে হবে, পবিত্র রমজানে ইফতার এবং সেহরীতে ঔষধের পরিমাণ কেমন হবে। সর্বোপরি আপনি রোজা রাখতে পারবেন কি না সেটাও জেনে নিন।
তেলে ভাজা ইফতার
বিশেষ করে ছোলা, পিঁয়াজু, বেগুনী, হালিম, চপ, কাটলেট, আরও কতো কী? এসব ছাড়া যেন ইফতার চলেই না। বছরের পর বছর চলেই আসছে এই আইটেমগুলো। আসলেই কী এসব খাবার স্বাস্থ্য সম্মত? উত্তর হচ্ছে না, কারণ এক গ্রাম তেল থেকে নয় কিলো ক্যালরী শক্তি পাওয়া যায়। যে কারণে পুরো মাস রোজা পালনের পরও কেউ কেউ বলে থাকে শরীরের এক কেজি ওজনও কমলো না !
আসলে তেলে ভাজা ভুনা খাবার ওজন বৃদ্ধি করে। রক্তে কোলেস্টেরল বাড়ায়।
রক্তে চিনি বাড়ায়। হার্টের রোগ এবং উচ্চ–রক্তচাপ বাড়ায়। যাদের কিডনির সমস্যা আছে তারা যদি ইফতারে ছোলা, পিঁয়াজু, বেগুনী ইত্যাদি মাসব্যাপী যায় অর্থাৎ দ্বিতীয় শ্রেণীর এই প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশী খায় তারা অনেক জটিলতায় পরবে। ভাজা জাতীয় খাবার বেশী খেলে শরীরে এফিলেমাইড নামক এক ধরনের টক্সিক উপাদানের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। যা ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ায়। তাই জীবনকে সুন্দর ও সুস্থ রাখতে হলে তেলে ভাজা খাবার বাদ দিতে হবে। আর একটি কথা, পোড়া তেল ব্যবহার করা যাবে না। এমন তেলে কার্বনের পরিমান বেশী থাকে যা শরীরের ক্ষতি করে। মনে রাখবেন ডুবো তেলে ভাজার জন্য ৩২৫–৪০০ ডিগ্রী ফারেন হাইট তাপ যথেষ্ট।
একজন ডায়বেটিক ব্যক্তির ডায়েট প্ল্যান :
ভাজা পোড়া ছাড়া ইফতার : ইফতারে পানীয় ঃ যেমন ফলের জুস (বেল, তরমুজ, মোসাম্বী), ডাবের পানি, ইসুবগুলের ভূষির সরবত, মিল্ক সেক, লেবুর সরবত/ বেলের সরবত, লাচ্ছি, খেজুর ২–৩ টা, ফ্রুট সালাদ, যেকোন ফল (মৌসুমী ফল সারা দিনের ক্লান্তি দূর করে চিড়া+কলা/স্যুপ/খিচুড়ী/দুধ+ওটস/দুধ+কর্নফ্লেক্স
দুধের তৈরী খাবার/চিড়ার পোলাও/ মোমো /ষ্টীমের যেকোন খাবার।
সন্ধ্যারাতেঃ ভাত ১ কাপ, মাছ/মুরগীর মাংস, ডাল,
সেহরী : সবজি (ইচ্ছামত), ভাত ৩–৪ কাপ, মাছ অথবা মাংস, সবজি (ইচ্ছামত), দুধ বা দই
মনে রাখা জরুরি :
ডায়বেটিক রোগীর কম খাবার খেয়ে রোজা রাখা উচিৎ না। কম খাবার খাওয়া যাবেনা। ইফতার সন্ধ্যারাত সেহরী এই তিন বেলাতেই খাবার খেতে হবে। হাইপো লক্ষন দেখা দিলে রোজা ভাঙতে হবে।
হাসিনা আকতার লিপি পুষ্টিবিদ, কনসালট্যান্ট












