আজ চাঁদ দেখা গেলে কাল থেকে শুরু হচ্ছে রমজান। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রমজান এলে নিত্যপণ্যের দাম কমানো হয়। কিন্তু আমাদের দেশে ঘটে উল্টো ঘটনা। রমজানে নিত্যপণ্যের বাজার চাহিদাকে পুঁজি করে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা ক্রেতাদের পকেট কাটতে ব্যস্ত থাকে। রমজানে বাড়তি মূল্যের কারণে টেনশনে রয়েছে সীমিত আয়ের মানুষ। চলতি বছর রমজানের আগে ছোলা, চিনি, পেঁয়াজ–রসুনসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় নিম্নমুখী রয়েছে। তবে বাড়তি রয়েছে মাছ–মাংস ও সবজির বাজার। গত একদিনে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিতে ১০–২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এছাড়া মুরগির দাম বেড়েছে কেজিতে ৪০ টাকা পর্যন্ত। তবে কমেছে ডিমের দাম। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়।
ফরিদ উদ্দিন আহমেদ নামে এক বেসরকারি চাকরিজীবী জানান, রমজান মাসকে সংযমের মাস বলা হয়। কিন্তু আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের কাছে এই মাসটি টাকা উপার্জনের জন্য খুবই ভালো একটি মাস। মুসলিম সম্প্রদায়ের রমজান ছাড়াও ঈদের জামা কাপড়সহ আনুষঙ্গিক খরচ রয়েছে। এতে এই মাসে আমাদের মতো সীমিত আয়ের মানুষকে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। অন্তত রমজান মাসে হলেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে আরো বেশি তৎপর হতে হবে।
নগরীর কয়েকটি খুচরা বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকায়। চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকায়, চিকন মশুর ডাল ১৬০ টাকা, মোটা মশুর ডাল ৯০ টাকা, মুগ ডাল ১৭০ টাকা, লাল চিড়া ৮০ টাকা ও সাদা চিড়া ৬০ টাকা, খেসারির ডাল ৯০ টাকা, সাদা মটর ৬০ টাকা, চনার ডাল ১০০ টাকা, দেশি পেঁয়াজ ৬০ থেকে ৭৫ টাকা, চীনা রসুন ১৫০–১৫৫ টাকা, আদা বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়, সয়াবিন তেল ১৯৫ টাকা, ২ লিটার ৩৯০ টাকা ও ৩ লিটার সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ৫৮৫ টাকায়। কাজীর দেউরি এলাকার পাঁচফোড়ন স্টোরের বিক্রেতা মিজানুর রহমান বলেন, মুদিপণ্যের দাম গত বছরের তুলনায় কম রয়েছে। শুধুমাত্র সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে।
অন্যদিকে সবজির বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি কেজি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়, বাধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা, বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা, কচুর লতি ৮০ টাকা, লাউ ৫০ টাকা, ঢেড়শ ১৪০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা, শিম ৬০ টাকা, পেপে ৫০ টাকা, তিতা করলা ১৬০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, আলু ২৫ টাকা, টমেটো ৭০ টাকা, দেশি আলু ৬০ টাকা এবং মুলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। অন্যদিকে গত একদিনে মরিচের কেজি ৪০ টাকা বেড়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা। এছাড়া গাজর বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা এবং লেবু বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ২০ টাকায়।
কাজীর দেউরির বাজারের সবজি বিক্রেতা মোহাম্মদ আজম বলেন, সবজির সরবরাহ সংকটের কারণে দাম বেড়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম কমে যাবে।
অন্যদিকে মাংসের বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। একদিনের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ৪০ টাকা। গরুর মাংস হাড়ছাড়া বিক্রি হচ্ছে ৯৫০ টাকা এবং হাঁড়সহ বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকায়। অপরদিকে পাঙ্গাস মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২৭০ টাকা এবং রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৩০০ টাকা এবং কাতলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকায়।










