রমজানকে কেন্দ্র করে দেশের আমদানিকারকরা এ বছর বিপুল পরিমাণ ভোগ্যপণ্য আমদানি করেছেন। যার প্রভাবে রমজান আসার আগেই পাইকারিতে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম নিম্নমুখী। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে সিন্ডিকেট করে কখনোই ভোগ্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। যার টাকা আছে তিনি চাইলেই আমদানি করতে পারেন। এছাড়া কে কি পরিমাণ পণ্য আমদানি করছেন তা জানারও সুযোগ থাকে না। এখন পর্যন্ত গতবারের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ ভোগ্যপণ্য আমদানি হয়েছে। ইতোমধ্যে রমজান আসার আগেই অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ছোলার বাজার দিন পড়ে পড়ে যাচ্ছে। এছাড়া একইভাবে কমছে চিনি, মসুর ডাল, খেঁজুর এবং সাদা মটরের দামও। কেবল বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে ভোজ্যতেল। তাও আগের তুলনায় কিছুটা কমতির দিকে রয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে এখনো রমজানের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য খালাস অব্যাহত আছে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করা ১১ টি জাহাজ থেকে খালাস হচ্ছে চিনি, ছোলা, ডালসহ অন্যান্য পণ্য। এর মধ্যে চিনিবাহী ৪টি এবং ছোলা, সাদা মটর ডাল, মশুর ডালসহ অন্যান্য ৭টি কার্গো জাহাজ থেকে খালাস কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে জাহাজ জট নেই বলছেন বন্দর সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, রমজান উপলক্ষ্যে গত বছরের পহেলা অক্টোবর থেকে গতকাল পর্যন্ত আমদানিকারকরা ছোলা আমদানি করেছেন ২ লাখ ১৫ হাজার ৩০০ টন। এছাড়া একই সময়ে মশুর ডাল আমদানি হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৯১৭ টন এবং মটর ডাল আমদানি হয়েছে ১৫০ টন। অন্যদিকে পরিশোধিত সয়াবিন তেল আমদানি হয়েছে ৪০ হাজার টন এবং পরিশোধিত চিনি আমদানি হয়েছে ২১ হাজার ৮২১ টন। এছাড়া খেঁজুর আমদানি হয়েছে ৭৬ হাজার ২২০ টন। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক দৈনিক আজাদীকে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভোগ্যপণ্যের জাহাজ থেকে পণ্য খালাস হয়ে থাকে। এখন খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। কোনো ধরণের জট নেই।
খাতুনগঞ্জের আড়তদাররা জানান, রমজানকে কেন্দ্র করে ভোগ্যপণ্যের আমদানি আগের চেয়ে বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের দোকান ও গুদামে প্রচুর পরিমাণ পণ্য মজুদ রয়েছে। সাধারণত রমজান এলে শরবতের চাহিদা বেড়ে যায়। তাই চিনির ব্যবহারও বাড়ে কয়েক গুণ। বর্তমানে বাজারে চিনির কোনো ঘাটতি নেই। এছাড়া সারা দেশে প্রায় ৮০ হাজার টন ছোলার চাহিদা থাকে। অস্ট্রেলিয়া থেকে প্রচুর পরিমাণে ছোলা এসেছে। এছাড়া এর বাইরে রমজানে সাদা মটর ও মশুর ডালেরও চাহিদা বেড়ে যায়। ভোজ্যতেল, চিড়া এবং খেঁজুরের চাহিদাও বৃদ্ধি পায়। সাধারণত খেঁজুর আমদানি হয় ইরান, তিউনিসিয়া, দুবাই ও সৌদি আরব থেকে। এ বছর পর্যাপ্ত পরিমাণ খেঁজুর আমদানি হয়েছে। দাম বাড়ার সম্ভাবনা নেই।
গতকাল চাক্তাই খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি পর্যায়ে প্রায় সব ভোগ্যপণ্যের দর নিম্নমুখী। রমজানের আবশ্যিক পণ্য অস্ট্রেলিয়ান ছোলা কেজিতে ৩ টাকা কমে এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। এছাড়া মিয়ানমারের ছোলা কেজিতে ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। মশুর ডাল ৫ টাকা কমে গিয়ে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা এবং মটর ডাল কেজিতে ৫ টাকা কমে গিয়ে বিক্রি হচ্ছে ৩৪ টাকায়। অন্যদিকে চিড়ার মণ ১৫০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩৫০ টাকা এবং সেমাই প্রতি মণ ৫০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪৫০ টাকায়। সাদা মটরের কেজি ২ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা, চিনি (৫০ কেজি বস্তা) ৫০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ১১০ টাকা, পেঁয়াজ কেজিতে ৫ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা এবং আদা ১০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। অপরদিকে ভোজ্যতেলের মধ্যে বেড়েছে পাম তেলের দাম। এছাড়া অপরিবর্তিত রয়েছে সয়াবিনের দাম। বর্তমানে পাম তেলের দাম মণপ্রতি ১৫০ টাকা বেড়ে গিয়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৯০০ টাকায়। এছাড়া সয়াবিন তেল প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২০০ টাকায়।
চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন দৈনিক আজাদীকে বলেন, এ বছর প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভোগ্যপণ্য আমদানি হয়েছে। যার কারণে প্রত্যেক পণ্যের দাম দিন দিন কমে যাচ্ছে। একমাত্র তেলের দামই বেশির দিকে রয়েছে।
খাতুনগঞ্জের ভোগ্যপণ্যের অন্যতম শীর্ষ আমদানিকারক এবং বিএসএম গ্রুপের স্বত্বাধিকারী আবুল বশর চৌধুরী দৈনিক আজাদীকে বলেন, এ বছর ভোগ্যপণ্যের আমদানি বেশি হয়েছে। অন্যদিকে বেচাবিক্রি আবার গত বছরের চেয়ে খারাপ। রমজানকে কেন্দ্র করে আমি এবার ২৮ হাজার টনের মতো ছোলা আমদানি করেছি।












