পবিত্র রমজান মাসের আগে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে কমছে প্রায় সব ধরনের ভোগ্যপণ্যের দাম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে বাজারে সরবরাহ বাড়ার কারণে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম নিম্নমুখী রয়েছে। ছোলার দাম গত বছরের এই সময়ের তুলনায় ১৫–২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। এছাড়া কমেছে বিভিন্ন ধরনের ডালের দাম। চিনির দাম বাড়লেও এখনো গত বছরের মতো বাড়েনি। বর্তমানে কোনো পণ্যের সংকট নেই। প্রত্যেক ব্যবসায়ীর গুদামে পর্যাপ্ত ভোগ্যপণ্য রয়েছে।
খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে গতকাল খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ান ছোলার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬৮ থেকে ৭৫ টাকা। গত বছর রমজানের এক মাসে বিক্রি হয়েছিল ৯০ থেকে ৯৫ টাকায়। বর্তমানে মোটা মশুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৭৩ টাকায়। গত বছর বিক্রি হয়েছিল ৮৫ টাকায়। গত বছর চিকন মশুর ডাল বিক্রি হয়েছিল ১৪০ টাকায়। বর্তমানে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকায়। বর্তমানে মটর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৪৮ টাকায়। গত বছর বিক্রি হয়েছিল ৫৫ টাকায়। বর্তমানে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৯৪ টাকায়। গত বছর বিক্রি হয়েছিল ১১৪ টাকায়। বর্তমানে প্রতি কেজি এলাচ বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৪০০ টাকায়। গত বছর বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার টাকায়। গত বছর প্রতি কেজি লবঙ্গ বিক্রি হয়েছিল ১ হাজার ২০০ টাকায়। এখন বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ১০০ টাকায়। এছাড়া জিরার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫৩০ টাকায়। গত বছর বিক্রি হয়েছিল ৫৫০ টাকায়।
অন্যদিকে পাম তেল মণপ্রতি (৩৭.২৩৭ কেজি) বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ৮০০ টাকায়। গত বছর বিক্রি হয়েছিল ৪ হাজার ৫০০ টাকায়। বর্তমানে প্রতিমণ সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৩০০ টাকায়। গত বছর বিক্রি হয়েছিল ৬ হাজার ৬০০ টাকায়। প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩০–৪০ টাকায়। গত বছর বিক্রি হয়েছিল ৪৫–৫৫ টাকায়। এছাড়া বর্তমানে ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ থেকে ৬৮ টাকায়। গত বছর বিক্রি হয়েছিল ৭০–৭৫ টাকায়। অন্যদিকে চীনা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায়। গত বছর বিক্রি হয়েছিল ১৭০ টাকায়। চীনা আদা বিক্রি হচ্ছে ১০৫ থেকে ১১৫ টাকায়। গত বছর বিক্রি হয়েছিল ১২৮–১৩০ টাকায়। এছাড়া বর্তমানে দেশি আদা বিক্রি হচ্ছে ৫০–৬৫ টাকায়। গত বছর বিক্রি হয়েছিল ১০০ টাকায়।
খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস আজাদীকে বলেন, বাজারে এখন নতুন দেশি পেঁয়াজ এসেছে। ফলনও ভালো হয়েছে। ফলে বাজারও কমতির দিকে। এছাড়া অল্প পরিমাণে ভারতীয় পেঁয়াজও আছে। এছাড়া আদা–রসুনের দামও গত বছরের এই সময়ের তুলনায় কম আছে। সামনেও দাম বাড়ার আশঙ্কা দেখছি না। দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
চাক্তাই খাতুনগঞ্জ আড়তদার সাধারণ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. মহিউদ্দিন আজাদীকে বলেন, রমজান উপলক্ষে বর্তমানে বাজারে ব্যবসায়ীরা পণ্য গুদামজাত করতে শুরু করেছেন। অনেকের আমদানি পণ্য বন্দর থেকে খালাসের অপেক্ষায় আছে। সরবরাহ বাড়ার কারণে দাম কমছে। বিশেষ করে গত বছরের ছোলার দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কম আছে। এছাড়া সব ধরনের ডাল জাতীয় পণ্যের দাম কমছে। সম্প্রতি চিনির দাম কিছুটা বাড়লেও সেটি গত বছরের হিসেবে কম আছে। সামনে কোনো পণ্যের দাম বাড়বে না। কারণ রমজানকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ব্যবসায়ীরা প্রচুর পণ্য আমদানি করেছেন।












