রং ছড়াল মনে মনে, বনে বনে

বোধনের বর্ণাঢ্য বসন্ত উৎসব

আজাদী ডেস্ক | রবিবার , ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ১১:১২ পূর্বাহ্ণ

আজি বসন্ত জাগ্রত দ্বারে। তব অবগুন্ঠিত কুন্ঠিত জীবনে’… ‘এলো বনান্তে বসন্ত। বনে বনে মনে মনে রং ছড়ায় রে, চঞ্চল তরুণ দুরন্ত’শীতকে আনুষ্ঠানিক বিদায় দিয়ে ভালোবাসার দিনে ফাল্গুনী সমীরণ, পাতাঝরা পলাশ আর শিমুলের ডালে ডালে যে রঙ লেগেছে, তাকে বরণ করতে বোধন আবৃত্তি পরিষদ গতকাল শনিবার নগরীর পাহাড়তলীর শহীদ ওয়াসিম পার্কে আয়োজন করে বসন্ত উৎসব। উৎসবের আঙিনায় ছিল সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, ঢোলবাদন, কথামালা, শোভাযাত্রা, যন্ত্রসংগীতসহ নানা আয়োজন।

সকালে ভায়োলিনিস্ট চিটাগাংয়ের যন্ত্রসংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বসন্ত উৎসবের আয়োজন। বসন্তের হাওয়ায় দলীয় নৃত্যে অংশ নেন নৃত্যরূপ, সুরাঙ্গন বিদ্যাপীঠ, দ্যা স্কুল অব ক্লাসিক্যাল অ্যান্ড ফোক ডান্স, নৃত্য নিকেতন, মাধুরী ডান্স একাডেমির শিল্পীরা।

গানে গানে দলীয় সংগীতে বসন্তকে স্বাগত জানান সুর পঞ্চম, আর কে মিউজিক, বাগেশ্বরী। একক গান পরিবেশন করেন কেশব জীপসী, ঋষু তালুকদার, চন্দ্রিমা ভৌমিক রাত্রি, কান্তা দে, সুমিতা সরকার, রিনা দাশ, মনি আচার্য্য। তবলা লহড়ায় ছিলেন উঠান সংগীত বিদ্যালয়। একক আবৃত্তি করেন কংকন দাশ, মিশফাক রাসেল, দেবাশীষ রুদ্র। ঢোলবাদনে ছিলেন দীপক ও তার দল। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যভাগে হয় বসন্তকথন পর্ব। এতে অংশ নেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বোধনের সহসভাপতি সুবর্ণা চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদ ইসমাইল সোহেল, অর্থ সম্পাদক অনুপম শীল। মানবিক, অসামপ্রদায়িক ও শোষণহীন সমাজ গঠনের জন্য বাঙালির এসব উৎসবপার্বণগুলোর গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে এসময় বক্তারা বলেন, সারা বছরের নানান বঞ্চনা, নানান টানাপোড়েনের গ্লানি মুছে যায় এই বসন্তে। এই ফাগুনেই রক্তে রঞ্জিত হয়েছে বাংলার রাজপথ। বুকের রক্তে বাঙালি রক্ষা করেছে মাতৃভাষার মর্যাদা। পরে একক ও দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করেন বোধন আবৃত্তি পরিষদের শিল্পীরা।

অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন গৌতম চৌধুরী, পলি ঘোষ, শ্রেয়সী স্রোতস্বীনি, ঋত্বিকা নন্দী, পল্লব গুপ্ত। শেষে বসন্ত বরণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। উৎসবে মিডিয়া পার্টনার ছিলো দৈনিক আজাদী।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবান্দরবানে দুই প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত
পরবর্তী নিবন্ধচট্টগ্রাম মহানগরী ক্রীড়া সংস্থার হ্যান্ডবল কমিটির মতবিনিময় সভা