প্রতারণার অভিযোগে পটিয়া থেকে রিয়াদ বিন সেলিম (৪০) নামে এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে পটিয়া থানা পুলিশ। প্রতারক রিয়াদ পটিয়া পৌরসভার পাইকপাড়া গ্রামের ৬নং ওয়ার্ডের মৃত মো. সেলিম উদ্দিনের পুত্র। শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে পটিয়া থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম অভিযান পরিচালনা করে নিজ বসতঘর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর তার ছবি সম্বলিত আইডি কার্ড (যাতে ইংরেজিতে লেখা রয়েছে ‘সিএসএফ চেয়ারপার্সন সিকিউরিটি ফোর্স, কার্ড নং–০১৩), ১টি হ্যান্ড মেটাল ডিটেক্টর, একটি চার্জারসহ ওয়াকিটকি হ্যান্ডসেট, ১টি কালো হাতল বিশিষ্ট সিগন্যাল লাইট, আসামির ছবি সম্বলিত ১টি মনিটরিং সেল কার্ড, ১টি ওয়াকিটকি সাদৃশ্য মোবাইল ফোন ও ১টি আইটেল বাটন মোবাইল সেট জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির ফেসবুক আইডি ইংরেজিতে ‘লায়ন রিয়াদ সেলিম’। এ আইডিতে বিভিন্ন সময় সরকারের শীর্ষ ব্যক্তিসহ মন্ত্রীদের সাথে তার ঘনিষ্টতার ছবি পোস্ট করে তিনি লোকজনকে বিভ্রান্ত করে প্রতারণা করতেন বলে জানায় পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ছবিগুলো এআই জেনারেটেড মর্মে ধারণা করা হচ্ছে। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রটোকল শাখার ভুয়া আইডি কার্ড তৈরি করে তদবির বাণিজ্য করতেন মর্মে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানায়, নগরীর আগ্রাবাদে বসবাসরত কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার থানার সাইচাপাড়ার বজল মাস্টার বাড়ির মৃত নুরুল ইসলামের পুত্র কামরুল হাসান গ্রেপ্তার জেলে গেলে প্রতারক রিয়াদ বিন সেলিম দ্রুত জামিন করিয়ে দিবেন মর্মে আশ্বাস দিয়ে তার স্ত্রীর কাছ থেকে বিকাশে প্রথমে ১৫ হাজার ৩০০ টাকা এবং পরে সরাসরি আরো ২ লাখ টাকা নেন। এ অভিযোগে রোববার পটিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী।
গ্রেপ্তার প্রতারক রিয়াদ বিন সেলিমের পিসিপিআর বিশ্লেষণ করে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে সিএমপির আকবরশাহ থানা, চান্দগাঁও থানায় ধর্ষণ এবং মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে।
অভিযুক্তের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিনি বিভিন্ন সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন পদে চাকুরি দেয়ার নামে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। ভূয়া পার্সেল ডেলিভারির তথ্য সরবরাহ করেও অবৈধভাবে টাকা আত্মসাৎ করতেন। প্রতারণার মাধ্যমে তিনি বিপুল সংখ্যক লোককে ঠকিয়ে অর্থ উপার্জনকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন বলে পুলিশ ধারণা করছে।
এ বিষয়ে পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ জিয়াউল হক জানান, প্রতারক রিয়াদ বিন সেলিমকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তখন হয়তো আরো তথ্য জানা যাবে।













