যেভাবে গ্রেপ্তার হলো পুলিশেরসাবেক এএসআইসহ ৬ জন

ছিনতাই হওয়া ৩৫ স্বর্ণের বারের ২৯টি উদ্ধার

আজাদী প্রতিবেদন | শনিবার , ১০ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৫:৪৪ পূর্বাহ্ণ

নগরীতে স্বর্ণের দোকানের কর্মচারীকে জিম্মি করে ৩৫টি স্বর্ণের বার ছিনতাই মামলার মূল হোতাসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিএমপির ডিবি (উত্তর) বিভাগ ও পাঁচলাইশ মডেল থানা পুলিশ। যৌথ অভিযানে ছিনতাইয়ের চারদিন পর ২৯০ ভরি ওজনের ২৯টি বার উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। এসব স্বর্ণের বাজারমূল্য ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা। গ্রেপ্তারকৃতরা হলোসুমন চন্দ্র দাস (৪২), মো. মাসুদ রানা প্রকাশ বাইক বাবু (৩০), রফিকুল ইসলাম প্রকাশ ইমন (২২), রবি কুমার দাস (৪০), পান্না রানী দাস দিপালী রানী দাশ (৩৮) ও বিবেক বনিক (৪২)। এর মধ্যে সুমন পুলিশের এএসআই ছিলেন। গতকাল বিকেলে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানা হয়েছে, গত ৪ জানুয়ারি ভোর আনুমানিক ৫টায় জনৈক সবুজ দেবনাথ তাঁর সঙ্গে আরও ২ জনকে নিয়ে সিএনজি যোগে কোতোয়ালী থানাধীন সাবএরিয়া এলাকা থেকে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন অঙিজেনের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে আতুরার ডিপো এলাকায় পৌঁছালে ২টি মোটরসাইকেলে ৪ ছিনতাইকারী তাদের পথরোধ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩৫টি স্বর্ণের বার, ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর পাঁচলাইশ মডেল থানা ও ডিবি (উত্তর) বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত আভিযানিক দল গোপন সূত্র ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৮ জানুয়ারি বিকেল আনুমানিক সাড়ে তিনটায় গাজীপুর জেলার কাশিমপুর থানাধীন মাধবপুর এলাকায় কাশিমপুর থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মামলার মূল অভিযুক্ত সুমন চন্দ্র দাস (৪২), মো. মাসুদ রানা প্রকাশ বাইক বাবু (৩০) এবং রফিকুল ইসলাম প্রকাশ ইমনকে (২২) গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাঁদের হেফাজত থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত ১টি সুজুকি জিঙার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার সুমন চন্দ্র দাস স্বীকার করে যে, তার নেতৃত্বে পূর্বপরিকল্পিতভাবে উক্ত ছিনতাইয়ের ঘটনা সংঘটিত হয় এবং লুণ্ঠিত স্বর্ণের বারগুলো তাঁর স্ত্রী পান্না রানী দাস দিপালী রানী দাশ (৩৮) অথবা তার চাচাত ভাই রবি কুমার দাসের (৪০) কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে একই দিন সন্ধ্যা সোয়া ছয়টায় ডিএমপির মোহাম্মদপুর থানাধীন রায়ের বাজার এলাকা থেকে রবি কুমার দাসকে (৪০) গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর স্বীকারোক্তিমতে একই দিন রাত আনুমানিক পৌনে ১১টায় সিএমপির হালিশহর থানাধীন বড়পোল এলাকা থেকে পান্না রানী দাস দিপালী রানী দাশকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়।

সিএমপির উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম বলেন, সুমন চন্দ্র দাসের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মামলার গোপন তথ্যদাতা হিসেবে বিবেক বনিককে (৪২) বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত পৌনে ১২টায় কোতোয়ালী থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে আসামিদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ছিনতাই করা ২৯টি স্বর্ণের বার প্রথমে পান্না রানী দাসের হেফাজতে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে তা রবি কুমার দাসের কাছে হস্তান্তর করা হয়। লুণ্ঠিত স্বর্ণগুলো সাক্ষী প্রতিমা দাশের কাছে রেখে যান। এই তথ্যের ভিত্তিতে ৯ জানুয়ারি ডিএমপির মোহাম্মদপুর থানাধীন বৈশাখী খেলার মাঠ সংলগ্ন সিরাজ মিয়ার বিল্ডিংয়ের ৫ম তলার একটি বাসা থেকে একটি ‘পিউর ইট ক্লাসিক জার্ম কিল কিট’ লেখা কাগজের বাঙ উদ্ধার করা হয়। এ বাঙের ভেতর মৌজায় মোড়ানো ও হলুদ রঙের কসটেপ মোড়ানো অবস্থায় ২৯টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়, যার প্রতিটি বারের ওপর ইংরেজিতে ‘সেম ১০ টোলাস গোল্ড ৯৯৯.০’ লেখা ছিল।

উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম আরো বলেন, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধকর্মে জড়ানোর কারণে সুমনকে বিভাগীয় শাস্তির আওতায় পুলিশ বাহিনী থেকে স্থায়ী বরখাস্ত করা হয়েছিল। সে জেলেও গিয়েছিল। কিন্তু জেল থেকে বেরিয়ে এখন একটি পেশাদার ছিনতাইকারী সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছে।

পাঁচলাইশ থানার ওসি আব্দুল করিম বলেন, সাবেক এএসআই সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বিবেকের। বিবেক তাকে তথ্য দেয় যে, তাদের দোকানের একজন কর্মচারী সোনার বার নিয়ে যাবে। এরপর সুমন ছিনতাইয়ের মূল পরিকল্পনা সাজায়। ছিনতাইয়ের পর সোনার বারগুলো রাখে স্ত্রী পান্না ও শ্যালক রবির হেফাজতে। রবি আবার বারগুলো নিয়ে তার বোন প্রতিমার কাছে রাখে, যদিও প্রতিমা এ বিষয়ে কিছুই জানতো না।

পূর্ববর্তী নিবন্ধবিএনপির চেয়ারম্যান হলেন তারেক রহমান
পরবর্তী নিবন্ধ১৪০ প্রজাতির ফুলে সেজেছে ডিসি পার্ক