দুটি তেলবাহী জাহাজের নোঙর করার কথা তুলে ধরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, দেশে তেলের মজুত বাড়ছে, তবে ইরান যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত রেশনিং করে চলতে হবে। গতকাল রোববার দুপুর জাতীয় প্রেস ক্লাবের এক অনুষ্ঠানে জ্বালানি তেলের সর্বশেষ মজুত পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এদিন বেলা ১১টায় একটা জাহাজ নোঙর করেছে। আরেকটা জাহাজ ২টার সময় নোঙর করার কথা রয়েছে। তাহলে এই দুইটা জাহাজ এসে তেল ডেলিভারি করার পরে আমার মজুতটা আরো বাড়বে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, আমরা যাচ্ছেতাইভাবে খরচ করব। আমরা রেশনিংটা চালিয়ে যাব, যতদিন যুদ্ধ শেষ না হয় সেই পর্যন্ত। খবর বিডিনিউজের।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করেছে। জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জ্বালানি তেল ও এলএনজি মজুত নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় সরকার জ্বালানি তেল বিক্রির সীমা বেঁধে দেয়।
যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি পার হয়ে আসা কয়েকটি জ্বালানিবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছতে শুরু করেছে। যে কারণে মজুত বাড়ার কথা বলেছেন জ্বালানিমন্ত্রী। তবে রেশনিং যে অব্যাহত থাকবে সে কথা তুলে ধরে তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, এই যুদ্ধ কতদিন চলবে আমরা জানি না। আমার কাছে যে মজুত আছে, সেটা সাশ্রয় করে ব্যবহার করার জন্য জনগণের কাছে আহ্বান জানিয়েছি এবং আমরা রেশনিং শুরু করেছি। তিনি বলেন, সব একবারে খেয়ে শেষ করার চাইতে চলার মতো ব্যবস্থা করে যদি আমরা চলি, তাহলে আমরা দীর্ঘদিন চলতে পারব। সেজন্য গতকালও বলেছি, আমাদের তেল মজুত আছে, কিন্তু রেশনিং করে চলতে হবে। যেসব জাহাজ আটকে গেছে, যেসব জাহাজ মধ্য সমুদ্রে আছে, সেগুলো আসতে আসতে যেন আমার এই মজুতে হাত না পড়ে।
বিদ্যুতের দাম বাড়ছে না : ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, মানুষের মধ্যে বিরোধীরা আতঙ্ক ছড়িয়েছে যে, আমরা হয়তো এই যুদ্ধের কারণে বিদ্যুৎ এবং জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দেব। আমি আশ্বস্ত করেছি যে, আপাতত আমরা বিদ্যুতের দাম বাড়াচ্ছি না। সুতরাং দাম বাড়বে বলে ভয়ে তেল ভরে মজুদ করবেন, এটা ঠিক হবে না। তাই আমি প্রত্যেকটি, এখানে যারা উপস্থিত আছো, তোমরা আমার ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা, তাদের কাছে অনুরোধ থাকবে, তোমরা এটা ভালোভাবে প্রচার করো যে, তেলের অভাব নাই, কিন্তু রেশনিংটা চালু রাখতে হবে। আমরা জানি না ওই যুদ্ধ কবে বন্ধ হবে–এটা মানুষকে বলতে হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি তেল যাতে চোরাচালান কিংবা কালোবাজারে না যায় সেজন্য নেতা–কর্মীসহ জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বানও জানান জ্বালানিমন্ত্রী।
‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের আমলে দেশের অর্থনীতির দুরবস্থা, বিদ্যুৎ খাতের ভঙ্গুর অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটা ভঙ্গুর অবস্থা, দেনাগ্রস্ত সিস্টেমকে আমরা পেয়েছি। ৭৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া। সেই সিস্টেমকে আমরা ইনশাআল্লাহ এখনো ভালো রেখেছি। তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের ২০ দিনের কথা তুলে ধরে টুকু বলেন, ইফতার, তারাবিহ ও সেহেরির সময়ে বিদ্যুতের যাতে লোডশেডিং না হয় সেজন্য বিশেষ নির্দেশনা দিয়ে সফল হয়েছেন তারা।












