যুদ্ধ নয়, ফিলিস্তিন মুক্ত হোক

স্লোগান হাভিয়ের বারদেমের

| মঙ্গলবার , ১৭ মার্চ, ২০২৬ at ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ

লস অ্যাঞ্জেলেসের ডলবি থিয়েটারে অস্কারের আসরে বেশিরভাগ পুরস্কার বিজয়ী ও সঞ্চালক তাদের বক্তব্য রাজনীতিমুক্ত রাখলেও, বেশ কয়েকজন মঞ্চে রাজনীতিবিদ, বন্দুক হামলা ও বিশ্বের চলমান যুদ্ধের সমালোচনা করেছেন। হলিউড রিপোর্টার লিখেছে, এবারের অস্কার অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা কোনান ও’ব্রায়েন। সাধারণত অন্য সঞ্চালকদের মত তিনি খুব বেশি রাজনৈতিক মন্তব্য করেন না। তবে উদ্বোধনী বক্তব্যেই দর্শকদের সতর্ক করে তিনি বলেন, আজকের অনুষ্ঠান কিছুটা রাজনৈতিক হতে পারে।

সেরা আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্মের পুরস্কার ঘোষণার আগে স্প্যানিশ অভিনেতা হাভিয়ের বারদেম সরাসরি বলেন, যুদ্ধ নয়, ফিলিস্তিন মুক্ত হোক। তার পোশাকে দেখা গেছে যুদ্ধবিরোধী পিন। তার এই স্লোগানের পর উপস্থিত দর্শকদের কাছ থেকে জোরালো করতালি শোনা যায়। নরওয়ের সিনেমা ‘সেন্টিমেন্টাল ভ্যালু’ পেয়েছে সেরা আন্তর্জাতিক সিনেমার পুরস্কার। এই সিনেমার পরিচালক ওয়াকিম ট্রিয়ার তার বক্তব্য শেষ করেন আমেরিকান লেখক জেমস বল্ডউইনের উদ্ধৃতি দিয়ে। তিনি বলেন, সব প্রাপ্তবয়স্কই সব শিশুর দায়িত্ব নেয়এমন রাজনীতিবিদকে ভোট দেবেন না যারা এই দায়িত্ব গুরুত্ব সহকারে নেন না। খবর বিডিনিউজের।

অনুষ্ঠান শেষে প্রেস রুমে ট্রিয়ার আরও বলেন, বর্তমানে আমরা যুদ্ধে শিশুদের ওপর আক্রমণের খবর আগের চেয়ে অনেক বেশি পাচ্ছি। আমার দুটি ছোট সন্তান আছে। ফিলিস্তিন, ইউক্রেন, সুদানের শিশুদের কষ্ট দেখে আমরা প্রতিদিন কাঁদছি, অসহায়বোধ করছি। কোনো জবাবদিহিতা নেই। আমি রাজনীতিবিদ নই, কিন্তু আমি বিশ্বাস করিশিশুদের সুরক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

এর আগে দুটি ডকুমেন্টারি বিভাগের বিজয়ীরাও রাজনৈতিক বক্তব্য দেন। সেরা ডকুমেন্টারি শর্ট বিভাগে জয়ী ‘অল দ্য এম্পটি রুমস’ স্কুল শুটিংয়ে নিহত শিশুদের খালি ঘর নিয়ে তৈরি। পরিচালক জোশুয়া সেফটেল মঞ্চে হ্যালি, গ্রেসি, ডমিনিক ও জ্যাকিএই চার শিশুর নাম স্মরণ করেন।

জ্যাকির মা, গ্লোরিয়া ক্যাসালেস বলেন, আমার মেয়ে জ্যাকি যখন উভালদেতে নিহত হয় তখন তার বয়স ছিল ৯ বছর। সেই দিন থেকে, তার শোবার ঘর আগের মতই রয়ে গেছে। জ্যাকি শুধু একটি শিরোনাম নয়; সে আমাদের আলো এবং আমাদের জীবন। ক্যাসালেস আরও বলেন, বন্দুক সহিংসতা এখন শিশু এবং কিশোরকিশোরীদের মৃত্যুর এক নম্বর কারণ। আমরা বিশ্বাস করি যে যদি সবাই তাদের খালি শোবার ঘর দেখতে পেত, তাহলে আমেরিকার চেহারা পালটে যেত।

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়, পরিচালক সেফটেল আরও বলেন, আমরা আমাদের দেশে এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছেছি যেখানে স্কুলে গোলাগুলির ঘটনা খুব সাধারণ বিষয় হয়ে গেছে, প্রতি বছর ১০০টিরও বেশি এমন ঘটনা ঘটে। যেসব শিশু আমাদের ছেড়ে চলে গেছে আমরা যদি তাদের দিকে মনোযোগ দিই, তাহলে এই বিষয়গুলো, যা আমাদের মন থেকে দ্রুত মুছে যাচ্ছে, সেগুলো মনে রাখার সম্ভাবনা বেশি।

সেরা ডকুমেন্টারি ফিচার বিভাগে জয়ী ‘মিস্টার নোবডি এগেইনস্ট পুতিন’ রাশিয়ার এক শিক্ষকের গোপন ভিডিও ফুটেজ নিয়ে তৈরি, যেখানে স্কুলকে যুদ্ধে সৈন্য নিয়োগ কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধদ্য সিঙ্গারস এবং টু পিপল এক্সচেঞ্জিং সেলাইভার বাজিমাত
পরবর্তী নিবন্ধভাসমান দোকান থেকে মুক্ত হলো কক্সবাজার সৈকত