মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাতিল হওয়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা ২৬৯টি। এই বিপুল সংখ্যক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। চাকরি, ব্যবসা–বাণিজ্য, পারিবারিক সম্পর্কসহ বহুমাত্রিক চাপে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। এদের অনেকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে, অনেকে ব্যবসা নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন। বিমান চলাচল স্বাভাবিক না হওয়ায় ফ্লাইটের টিকিট কেটেও গন্তব্যে যেতে পারছেন না এসব মানুষ। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গতকালের ৫টিসহ ৩৮ দিনে মোট ২৬৯টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ২৬৯টি ফ্লাইটে অন্তত আশি হাজারের বেশি মানুষের যাতায়াত করার কথা ছিল। আর মাত্র দিনকয়েকের মধ্যে এই সংখ্যা ৩০০ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জড়িত না থেকেও বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী চলমান সংঘাতের শিকার হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সাথে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রতিদিন ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে। গত এক মাস ৮ দিনে ২৬৯টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকের মতো ফ্লাইট বিদেশ থেকে যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রামে আসার কথা ছিল। আবার একই সংখ্যক ফ্লাইটের চট্টগ্রাম থেকে যাত্রী নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপুল সংখ্যক মানুষ দুদিকে আটকা পড়েছেন। দেশে ছুটি কাটাতে এসে অনেকে ফিরতে পারছেন না বিদেশে। আবার বিদেশ থেকে ফিরতে পারছেন না দেশে। ছুটি কাটাতে এসে ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাচ্ছে অনেক প্রবাসীর।
মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেকে নির্ধারিত সময়ে দেশে ফিরতে পারছেন না। আবার অনেকে কর্মস্থলে যোগ দিতে পারছেন না। জরুরি প্রয়োজনে ভ্রমণ করতে না পারায় পারিবারিক ও আর্থিক সংকটও তৈরি হচ্ছে। এদের অনেকে আবার নতুন করে ঘুরপথে টিকিট করে গন্তব্যে যাচ্ছেন।
সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা আংশিকভাবে অনিরাপদ হওয়ায় অনেক এয়ারলাইনস তাদের ফ্লাইট বাতিল বা পুনঃনির্ধারণ করতে বাধ্য হয়েছে। বিশেষ করে ইউএস–বাংলা এয়ারলাইনস, এয়ার আরাবিয়া এবং সালাম এয়ারের মতো এয়ারলাইনসের ফ্লাইটগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শারজাহ, দুবাই ও আবুধাবি রুটে নিয়মিত যাতায়াত প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
ফ্লাইট বাতিলের ফলে শুধু যাত্রীদের ভোগান্তি নয়, এয়ারলাইনসগুলোও বিপুল আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। একই সঙ্গে ট্রাভেল এজেন্সি, হোটেল, পরিবহন খাতসহ সংশ্লিষ্ট সেবাখাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। মূলত যাত্রীবাহী ফ্লাইট বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবুও এর প্রভাব কার্গো পরিবহনেও পড়ছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় বিদেশগামী পর্যটক এবং বাংলাদেশে আগত পর্যটক উভয়ের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ফলে পর্যটন খাত, বিশেষ করে কঙবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের হোটেল–রিসোর্ট ব্যবসাও ক্ষতির মুখে পড়ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে এই সংকট আরো দীর্ঘায়িত হতে পারে। এতে করে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা আরো বাড়বে এবং এর প্রভাব দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনে গভীরভাবে পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন।
আরো ৫ ফ্লাইট বাতিল : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার উন্নতি না হওয়ায় শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গতকাল সোমবার ৫টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ইউএস–বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত একটি এরাইভাল ও একটি ডিপার্চার ফ্লাইট, এয়ার আরাবিয়ার একটি এরাইভাল ফ্লাইট, সালাম এয়ারের একটি এরাইভাল ও একটি ডিপার্চার ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
তবে বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত ৭টি এরাইভাল এবং ৬টি ডিপার্চার ফ্লাইট সচল ছিল বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, শারজাহ, দুবাই ও আবুধাবি রুটে সালাম এয়ার, এয়ার আরাবিয়া এবং ইউএস–বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইটগুলোর স্থবিরতা এখনো কাটেনি।














