যুদ্ধের আগে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেওয়া ১২ জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে

চারটিতে এলএনজি, দুটিতে এলপিজি রয়েছে তিনটি ভিড়বে চলতি সপ্তাহে

আজাদী প্রতিবেদন  | রবিবার , ৮ মার্চ, ২০২৬ at ৮:১৩ পূর্বাহ্ণ

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগর অতিক্রম করে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হওয়া ১৫টি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এসব জাহাজে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং সিমেন্টশিল্পের কাঁচামালসহ মোট প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টন পণ্য রয়েছে। বন্দর ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৫টি জাহাজের মধ্যে ইতোমধ্যে ১২টি চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। বাকি তিনটি জাহাজ চলতি সপ্তাহের মধ্যে বন্দরে ভিড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাহাজগুলোর মধ্যে চারটিতে রয়েছে এলএনজি, দুটিতে এলপিজি এবং নয়টিতে সিমেন্টশিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল ক্লিংকারসহ অন্যান্য উপকরণ। সংঘাত শুরুর আগেই এসব জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করায় নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তেহরানের অবস্থানের কারণে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সামুদ্রিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বিশ্বব্যাপী তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবাহিত হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর সূত্র জানায়, কাতার থেকে প্রায় ১ লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামে দুটি জাহাজ ইতিমধ্যে বন্দরে পৌঁছেছে। একই উৎস থেকে আরো দুটি জাহাজ ‘আল গালায়েল’ ও ‘লুসাইল’ আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে চারটি জাহাজে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন এলএনজি রয়েছে।

এদিকে এলপিজি বহনকারী ‘সেভান’ নামে একটি জাহাজ আজ রোববার বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এতে প্রায় ২২ হাজার টন এলপিজি রয়েছে, যা সোহার বন্দর ওমান থেকে আনা হচ্ছে। এর আগে একই বন্দর থেকে ‘জি ওয়াইএমএম’ নামে আরেকটি জাহাজ প্রায় ১৯ হাজার টন এলপিজি নিয়ে বন্দরে পৌঁছেছে। দুটি চালানই মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মেঘনা ফ্রেশ এলপিজির জন্য আনা হয়েছে।

এছাড়া কুয়েতের শুয়াইবা বন্দর থেকে পাঁচ হাজার টন মনোইথিলিন গ্লাইকোল (এমইজি) নিয়ে ‘বে ইয়াসু’ নামের একটি জাহাজ গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। অন্যদিকে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সিমেন্টশিল্পের কাঁচামাল ক্লিংকার, জিপসাম, চুনাপাথর ও পাথর নিয়ে আরো কয়েকটি জাহাজ বন্দরে এসেছে। এসব জাহাজে মোট প্রায় ৫ লাখ ১৫ হাজার টন কাঁচামাল রয়েছে, যা দেশের সিমেন্ট কারখানাগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের জ্বালানি ও কাঁচামাল আমদানির বড় অংশই হরমুজ প্রণালি হয়ে আসে। ২০২৪২৫ অর্থবছরে এই জলপথ ব্যবহার করে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়েছে। তবে চলমান উত্তেজনা অব্যাহত থাকলে নতুন জাহাজ চলাচল ও ভবিষ্যৎ সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধখাগড়াছড়িতে ইউপিডিএফ সদস্যকে গুলি করে হত্যা
পরবর্তী নিবন্ধশাহ আমানত থেকে আরো ১২ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল