যুদ্ধের অজুহাত, ভোজ্যতেলের দাম আরো বাড়ল

খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজার । দুই সপ্তাহে মণপ্রতি সরাবিন ২৫০ টাকা, পাম ৮০০ টাকা বেড়েছে

জাহেদুল কবির | বুধবার , ৮ এপ্রিল, ২০২৬ at ৬:১৩ পূর্বাহ্ণ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে সরবরাহ সংকটের অজুহাতে পাইকারিতে আরো বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম। গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি মণ পাম তেলের দাম (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) বেড়েছে ৮০০ টাকা এবং সয়াবিনের দাম বেড়েছে ২৫০ টাকা পর্যন্ত। ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীরা জানান, ইরানে ইসরায়েলযুক্তরাষ্ট্রের হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। এর প্রভাবে পাইকারি বাজারেও দাম বেড়েছে।

তবে ভোক্তারা বলছেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াটা স্বাভাবিক হলেও ভোজ্যতেলের দাম বাড়া সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক। অথচ ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বৃদ্ধি করে যাচ্ছেন। আসল কথা হচ্ছে, ভোজ্যতেলের বাজারে প্রশাসনের নজরদারির অভাব রয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীরা প্রায় সময় দাম ওঠানামা করান।

খাতুনগঞ্জের বাজারে গতকাল খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দুই সপ্তাহ আগে প্রতি মণ পাম তেল বিক্রি হয়েছে ৫ হাজার ৬৫০ টাকায়। সেই তেল মণে ৮০০ টাকা বেড়ে গিয়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৪৫০ টাকায়। এছাড়া বর্তমানে সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ৭ হাজার ৩৫০ টাকায়। দুই সপ্তাহ আগে এই তেল বিক্রি হয়েছে ৭ হাজার ১০০ টাকায়। খাতুনগঞ্জের কয়েকজন তেল ব্যবসায়ী জানান, খাতুনগঞ্জের বাজারে পণ্য বেচাকেনা ও লেনদেনে যুগ যুগ ধরে কিছু প্রথা চালু আছে। নিজেদের সুবিধার অনেক প্রথা আছে যেগুলো আবার আইনগতভাবেও স্বীকৃত নয়। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) স্লিপ। তেল কিংবা অন্য কোনো পণ্য কেনাবেচায় ডিও বেচাকেনার মাধ্যমে বিভিন্ন আগাম লেনদেন হচ্ছে। দেখা যায়, পণ্য হাতে না পেলেও ওই স্লিপটি বেচাকেনা হচ্ছে। কোনো কোম্পানি বাজার থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্যের ডিও কিনে নেয়। যে দরে ডিও কেনা হয়, তার বাজারদর যদি বেড়ে যায়, তখন পণ্যটি ডেলিভারি দিতে তারা গড়িমসি করে। আবার দেখা যায়, কোম্পানির পণ্য আসেনি, কিন্তু ডিও কিনে রেখেছেন অনেক বেশি। এর ফলেও কোম্পানি বাজারে পণ্য ডেলিভারি দিতে পারে না। ফলে এসব পণ্যের দামও নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এক্ষেত্রে তেল ও চিনির ডিও বেচাকেনা বেশি হয়।

খাতুনগঞ্জের কয়েকজন তেল ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভোজ্যতেলের বাজার এখনো গুটিকয়েক শিল্পগ্রুপের কাছে জিম্মি। তারা ইচ্ছেমতো বাজার নিয়ন্ত্রণ করছেন। এরা সিন্ডিকেট করে দাম ওঠানামা করেন। এখানে ছোট তেল ব্যবসায়ীদের কিছু করার থাকে না। এখন যেমন যুদ্ধের অজুহাতে দাম বৃদ্ধি করছেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধ১৪ দিনের ব্যবধানে ফের জেট ফুয়েলের দাম বাড়ল, অভ্যন্তরীণ রুটে বৃদ্ধি ১২%
পরবর্তী নিবন্ধকৌতুক কণিকা