যুদ্ধের অজুহাত, বাড়ছে ভোজ্যতেলের দাম

জাহেদুল কবির | বুধবার , ১১ মার্চ, ২০২৬ at ৮:৪২ পূর্বাহ্ণ

ইরানে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে পুঁজি করে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে বেড়েছে ভোজ্যতেলের দাম। গত তিনদিনের ব্যবধানে পাম তেল এবং সয়াবিন তেলের দাম প্রতি মণে বেড়েছে সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা পর্যন্ত। ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীরা জানান, ইরানে ইসরায়েলযুক্তরাষ্ট্রের যৌথবাহিনীর হামলার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। এর প্রভাবে পাইকারী বাজারেও বেড়েছে দাম। তবে ভোক্তারা বলছেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াটা স্বাভাবিক হলেও ভোজ্যতেলের দাম বাড়া সম্পূর্ণ অস্বাভাবিক।

অথচ ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বৃদ্ধি করে যাচ্ছেন। এছাড়া যুদ্ধের কারণে যদি আন্তর্জাতিক বাজারে যদি দাম বেড়েও থাকে, তারপরেও স্থানীয় বাজারে এই মূহূর্তে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ার কথা না। কারণ বর্তমানে যেসব তেল বাজারে আছে, সেগুলো আগে আমদানি করা। আসল কথা হচ্ছে, ভোজ্যতেলের বাজারে প্রশাসনের নজরদারির অভাব রয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীরা প্রায় সময় দাম উঠানামা করান।

গতকাল খাতুনগঞ্জের বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত তিনদিন আগে প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) পাম তেল বিক্রি হয়েছে ৫ হাজার ৮৫০ টাকায়। সেই তেল মণে ২৫০ টাকা বেড়ে গিয়ে এখন বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ১০০ টাকায়। এছাড়া অন্যদিকে বর্তমানে সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ৭ হাজার ৩০০ টাকায়। গত দুই সপ্তাহ আগে এই তেল বিক্রি হয়েছে ৭ হাজার ১০০ টাকায়।

খাতুনগঞ্জের কয়েকজন তেল ব্যবসায়ী জানান, খাতুনগঞ্জের বাজারে পণ্য বেচাকেনা ও লেনদেনে যুগ যুগ ধরে কিছু প্রথা চালু আছে। নিজেদের সুবিধার অনেক প্রথা আছে যেগুলো আবার আইনগতভাবেও স্বীকৃত নয়। এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) স্লিপ’। তেল কিংবা অন্য কোনো পণ্য কেনাবেচায় ডিও বেচাকেনার মাধ্যমে বিভিন্ন আগাম লেনদেন হচ্ছে। দেখা যায়, পণ্য হাতে না পেলেও ওই ওই স্লিপটিই বেচাকেনা হচ্ছে। কোনো কোম্পানি বাজার থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পণ্যের ডিও কিনে নেয়। যে দরে ডিও কেনা হয়, তার বাজার দর যদি বেড়ে যায়, তখন পণ্যটি ডেলিভারি দিতে তারা গড়িমসি করে। আবার দেখা যায়, কোম্পানির পণ্যই আসেনি কিন্তু ডিও কিনে রেখেছেন অনেক বেশি। এর ফলেও কোম্পানি বাজারে পণ্য ডেলিভারি দিতে পারে না। ফলে এসব পণ্যের দামও নিয়ন্ত্রণে থাকে না। এক্ষেত্রে তেল ও চিনির ডিও বেচাকেনা বেশি হয়।

খাতুনগঞ্জের কয়েকজন তেল ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভোজ্যতেলের বাজার এখনো গুটিকয়েক শিল্প গ্রুপের কাছে জিম্মি। তারা ইচ্ছে মতো বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। এর সিন্ডিকেট করে দাম উঠানামা করে। এখানে ছোট ব্যবসায়ীদের কিছু করার থাকে না। এখন যেমন যুদ্ধের অজুহাতে দাম বৃদ্ধি করছেন।

ফরিদ উদ্দিন নামের একজন ভোক্তা জানান, খাতুনগঞ্জে মূলত ডিও প্রথার কারণে তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম উঠানামা করে। এই ব্যবস্থায় একজন ক্রেতা শুধু একটি কাগজ কেনেন। যেখানে কেবল পণ্যের নাম ও দাম লেখা থাকে। এতেও বাজার নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। এছাড়া যুদ্ধসহ নানা অজুহাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করেও দাম বৃদ্ধি করেন ব্যবসায়ীরা। প্রশাসনও এদের বিরুদ্ধে তেমন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন না।

পূর্ববর্তী নিবন্ধঈদের ছুটিতে আমদানি-রপ্তানি সচল থাকবে
পরবর্তী নিবন্ধলামায় ১ হাজার ৯৭ পরিবার পেল ফ্যামিলি কার্ড