যুদ্ধবিরতির জন্য মার্চ থেকে অধীর ছিলেন ট্রাম্প

পাকিস্তানকে চাপ দিয়েছিলেন তিনিই

| শুক্রবার , ১০ এপ্রিল, ২০২৬ at ৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানকে ধ্বংসের হুমকি দেওয়া এবং তেহরান শান্তিচুক্তি চাইছে বলে দাবি করলেও তলে তলে তিনিই সাময়িক যুদ্ধবিরতির জন্য অধীর হয়ে পড়েছিলেন। খবর বিডিনিউজের।

পাকিস্তানকে একটি চুক্তি করার জন্যও চাপ দিয়েছিলেন ট্রাম্পই। যুদ্ধবিরতি আলোচনা সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের উদ্ধৃতি দিয়ে যুক্তরাজ্যের দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস পত্রিকা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এমন কথাই। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প গত ২১ মার্চে প্রথম ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করার হুমকি দেওয়ার সময় থেকেই যুদ্ধবিরতি করার জন্য অধীর হয়ে ছিলেন। হোয়াইট হাউজ একটি চুক্তির জন্য ভিক্ষা চাচ্ছিল বলে জানিয়েছেন, পাকিস্তাননেতৃত্বাধীন মধ্যস্থতাকারী দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচজন। তারা জানান, মূলত জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়তে থাকায় ট্রাম্প দুশ্চিন্তায় ছিলেন।

তাছাড়া, কয়েকসপ্তাহের বোমা হামলার পরও ইরানের শক্ত প্রতিরোধের মুখে তিনি যুদ্ধ থামাতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন। ফলে ট্রাম্প প্রশাসন কয়েকসপ্তাহ ধরে পাকিস্তানকে চাপ দিচ্ছিল যাতে তারা ইরানকে বুঝিয়ে যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা করে এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়। পাকিস্তান মুসলিম দেশ হওয়ায় এবং মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেওয়ায় ট্রাম্প মনে করেছিলেন, তাদের মাধ্যমে প্রস্তাব পাঠালে ইরান তা সহজে মানবে। পরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির গোপনে কূটনৈতিক তৎপরতা চালান।

এর ফলে গত মঙ্গলবার রাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে। অথচ এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই ট্রাম্প প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছিলেন, তার কথা না মানলে তিনি ইরানের পুরো সভ্যতা ধ্বংস করবেন। মঙ্গলবার ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা শেষ হয়ে আসতে থাকার সময় পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনে কয়েকদফায় কথা বলেন। এরপর তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত করেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধলেবাননে ইসরায়েলি হামলা যুদ্ধবিরতির জন্য মারাত্মক ঝুঁকি : জাতিসংঘ
পরবর্তী নিবন্ধক্ষেপণাস্ত্র নয় আকাশে উড়বে পাখিরা