বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানির যে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ নিয়েছে তা দু’দেশের বাণিজ্য ঘাটতি নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। গতকাল সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের খাদ্য বিভাগের সাইলো জেটিতে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। যুক্তরাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ গম আমদানি এবং সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ৬০ হাজার টন গম নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছার পর এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে আমাদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার এবং আজকের এই চালান আমাদের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য সম্পর্কের এক মাইলফলক। গত জুলাই মাসে বাংলাদেশ সরকার এবং ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েটসের মধ্যে সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষরিত হওয়ার পর বাংলাদেশ ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের গম চাষিদের অষ্টম বৃহত্তম মার্কেটে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের এই উদ্যোগ দুই দেশের বাণিজ্য ঘাটতি নিরসনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এই সমঝোতা স্মারকের অধীনে শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক পণ্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান অ্যাগ্রোকর্প’র মাধ্যমে তিনটি বিক্রয় চুক্তিতে বাংলাদেশ আনুমানিক ৬ লাখ ৬০ হাজার টন গম ক্রয় করেছে, যার মধ্যে ৩ লাখ ৫০ হাজার টনেরও বেশি ইতোমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, মার্কিন গম কেনা আমেরিকান কৃষকদের পাশাপাশি বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও একটি বিজয়। বছরব্যাপী ক্রয়সীমার মধ্যে পুষ্টিকর খাবার প্রাপ্তি বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা আমরা জানি। যুক্তরাষ্ট্রের কালামা বন্দর থেকে ৫৭ হাজার ২০৩ টন গম নিয়ে এমভি ক্লিপার ইসাডোরা জাহাজ গত ১৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে খাদ্য বিভাগের সাইলো জেটিতে সোমবার দুটি লাইটারেজ জাহাজে ৫ হাজার ৪০০ টন গম খালাস শুরু হয়। এই চালানটি মোট ১ লাখ ৭৩ হাজার টনের বেশি একটি বৃহত্তর গম সরবরাহের অংশ– যার মধ্যে ওয়াশিংটন, ওরেগন এবং আইডাহো থেকে প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার টন সফট হোয়াইট জাতের গম এবং মনটানা ও নেব্রাস্কা থেকে প্রায় ৬০ হাজার টন হার্ড রেড উইন্টার জাতের গম রয়েছে।
বাংলাদেশ বছরে তার মোট গমের চাহিদার মাত্র ১৩ শতাংশ উৎপাদন করতে সক্ষম। এ কারণে এই তিনটি চালান উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ পুষ্টিকর শস্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ নিশ্চিত করবে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য রপ্তানির জন্য বাংলাদেশ যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার হিসেবে ক্রমশ আরও বড় ভূমিকা নিচ্ছে এই ঐতিহাসিক সরবরাহগুলো তার প্রতিফলন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান ও খাদ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (সংগ্রহ) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বাণিজ্যিক সহযোগিতা জোরদার এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে গতকাল চট্টগ্রাম বন্দরও পরিদর্শন করেছেন। তিনি বন্দর চেয়ারম্যানের সাথে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময় করেন।












