যুক্তরাষ্ট্রের নতুন মানচিত্রে কানাডা, গ্রিনল্যান্ড এবং ভেনেজুয়েলা

ট্রাম্পের পোস্ট ঘিরে বিতর্ক

| বুধবার , ২১ জানুয়ারি, ২০২৬ at ১১:০১ পূর্বাহ্ণ

কানাডা, গ্রিনল্যান্ড এবং ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্রের অংশ হিসেবে দেখিয়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ এ ছবি শেয়ার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ইউরোপের কয়েকটি দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে, বিশেষ করে গ্রিনল্যান্ড দখলের মার্কিন পরিকল্পনা নিয়ে পরিস্থিতি সরগরম হয়ে ওঠার এই সময়ে ট্রুথ সোশ্যালে নতুন মানচিত্রের এই ছবি পোস্ট হল।

একটি ছবিতে দেখা গেছে, ট্রাম্প ওভাল অফিসে বসে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলছেন, আর তার পেছনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একটি মানচিত্রে কানাডা ও ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আরেকটি ছবিতে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন পতাকা ওড়াতে দেখা যায় ট্রাম্প, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে। সেখানে একটি মাইলফলকে লেখা, ‘গ্রিনল্যান্ড : মার্কিন অঞ্চল, প্রতিষ্ঠিত ২০২৬’। খবর বিডিনিউজের।

ছবিগুলো নিয়ে অনলাইনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ছবিতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার রঙে দেখানো কানাডা এবং গ্রিনল্যান্ডকে কেবল একটি প্রতীক নয় বরং এর চেয়েও বেশিকিছু বলেই মত দিয়েছেন অনেকে। এসব ছবি ট্রাম্পের ভূখণ্ড দখলের মনোভাবেরই সংকেত দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে রেড্ডিট ওয়েবসাইট ও অন্য প্লাটফর্ম। বিশেষ করে যখন ট্রাম্প বারবার গ্রিনল্যান্ড নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য জরুরি বলে দাবি করছেন সেরকম সময়ে এই সংকেত স্পষ্ট। অনেকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ট্রাম্পের এমন ছবি শেয়ার কারাটা তার সমর্থকদের কাছে কোনোরকম আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই সামরিক বা কূটনৈতিক পন্থায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড বাড়ানোর বিষয়টিকে স্বাভাবিক করে তুলতে পারেএমন ঝুঁকি আছে। ট্রাম্প এরই মধ্যে হুট করেই ভেনেজুয়েলায় রাতবিরাতে অভিযান চালিয়ে সস্ত্রীক সেদেশের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করে তুলে নিয়ে গেছেন।

এরপর ভেনেজুয়েলার শাসনকার্য ও খনিজ সম্পদের উপরও নিজেদের কর্তৃত্ব ঘোষণা করেছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাটাছেঁড়া চলার মধ্যেই ট্রাম্প জানিয়ে দেন, আপাতত আমেরিকাই ভেনেজুয়েলা চালাবে। পরে হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট গত ৮ জানুয়ারি জানান, ভেনিজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সর্বোচ্চ প্রভাব’ রয়েছে এবং তাদের সব সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রই নির্ধারণ করে দিচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধফরাসি মদে ট্রাম্পের ২০০% শুল্কের হুমকি
পরবর্তী নিবন্ধডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করতে পারবে না : ট্রাম্প