যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো ক্লাস্টার বোমা ইউক্রেনে পৌঁছেছে বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন দেশটির সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র। তাভরিয়া মিলিটারি কমান্ড ইন সাউদার্ন ইউক্রেইন এর মুখপাত্র ভালেরি শেরশেন সিএনএন–কে বলেন, ক্লাস্টার বোমাগুলো সবে মাত্র ইউক্রেইনে পৌঁছেছে। যুদ্ধে এখনো সেগুলির ব্যবহার হয়নি। খবর বিডিনিউজের।
ইউক্রেইন টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ক্লাস্টার বোমাগুলো ‘এখন আমাদের প্রতিরক্ষা বাহিনীর হাতে’। গত ৭ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দেয়, ইউক্রেনকে তাদের ৮০ কোটি মার্কিন ডলারের সামরিক সহায়তার অংশ হিসেবে তারা ক্লাস্টার বা গুচ্ছ বোমা পাঠাচ্ছে। তারপর থেকে ১২৩টি দেশে নিষিদ্ধ এই ক্লাস্টার বোমা পাঠানো নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র যুক্তি দিয়েছে, প্রায় ১৭ মাস আগে শুরু হওয়া রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতিরোধ যুদ্ধ যেন দুর্বল হয়ে না পড়ে, তাই তারা কিইভকে ক্লাস্টার বোমা পাঠিয়ে সহায়তা করছে।
ইউক্রেন বলেছে, তারা শুধুমাত্র তাদের ‘বেদখল’ হয়ে যাওয়া ভূমিতে ক্লাস্টার বোমার ব্যবহার করবে এবং শহরাঞ্চলে এই বোমার ব্যবহার তারা করবে না। গত বুধবার নেটোর সম্মেলনেও একই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যাক্ত করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
ইউক্রেনকে ক্লাস্টার বোমা দেওয়ার যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের খোলাখুলি সমালোচনা করেছে যুক্তরাজ্য, কানাডা, নিউ জিল্যান্ড এবং স্পেন।
ওই চারটি দেশই ক্লাস্টার যুদ্ধাস্ত্র বিষয়ক কনভেনশনে স্বাক্ষর করেছে। কিন্তু রাশিয়া, ইউক্রেন বা যুক্তরাষ্ট্র কেউই ওই কনভেনশনে সই করেনি।
ক্লাস্টার বা গুচ্ছ বোমা হলো একটি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে অসংখ্য ছোট ছোট বোমা, যা বৃহৎ এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালাতে পারে। যুদ্ধে এই অস্ত্রের ব্যর্থতা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। কারণ, একটি ক্লাস্টার বোমা থেকে অনেকটা গ্রেনেড আকৃতির যে ছোট ছোট বোমাগুলো বিস্তৃত এলাকা জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তার অনেকগুলিই অবিস্ফোরতি অবস্থায় থেকে যায়। ছোট ছোট ওইসব বোমা বছরের পর বছর ধরে মাটিতে অবিস্ফোরিত অবস্থায় পড়ে থাকে এবং যেকোনো সময় বিস্ফোরিত হয়ে বেসামরিক মানুষের প্রাণনাশের কারণ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের দল ডেমোক্রেটিক পার্টির বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতাও ইউক্রেনে ক্লাস্টার বোমা পাঠানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।












