যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে সুপার সিক্সে বাংলাদেশ

অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপ

স্পোর্টস ডেস্ক | শনিবার , ২৪ জানুয়ারি, ২০২৬ at ৫:৫৯ পূর্বাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রকে অনায়াসে হারিয়ে অনূর্ধ্ব১৯ বিশ্বকাপের সুপার সিক্সে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশ। হারারেতে গতকাল শুক্রবার গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে ৭ উইকেটে জিতেছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৯ রান তারা পেরিয়ে গেছে ৫১ বল বাকি থাকতেই। বাংলাদেশ ৪১.৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে তোলে ২০১ রান। এই জয়ে ৩ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে সুপার সিক্স নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রকে হারানোর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে পরিত্যক্ত ম্যাচ থেকে এক পয়েন্ট পেয়েছিল বাংলাদেশ, তার আগে হেরেছিল ভারতের কাছে। চার দলের গ্রুপ থেকে বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত ও নিউজিল্যান্ড সুপার সিক্সে উঠেছে। লক্ষ্য তাড়ায় ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের সবাই স্পর্শ করেন দুই অঙ্ক। তিনে নেমে দুটি করে ছক্কাচারে সর্বোচ্চ ৬৪ রান করেন অধিনায়ক আজিজুল হাকিম। ৩ ছক্কা ও ৫টি চারে ৪২ বলে ৪৭ রান আসে ওপেনার জাওয়াদ আবরারের ব্যাট থেকে। তবে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জিতে নেন ৪১ রানে ৩ উইকেট নেওয়া পেসার ইকবাল হোসেন। এছাড়া দুটি করে উইকেট নিয়ে দলের জয়ের ভিত গড়ে দেওয়ায় সহায়তা করেন আল ফাহাদ, শাহরিয়ার আহমেদ ও রিজান হোসেন। টস জিতে ফিল্ডিং নিয়ে শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রকে চেপে ধরে বাংলাদেশ। ম্যাচের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ওভারে প্রতিপক্ষ শিবিরে ছোবল দেন ইকবাল হোসেন ও আল ফাহাদ। ৬ রানে ২ উইকেট হারানো যুক্তরাষ্ট্রকে টানেন সাহিল গার্গ ও উৎকার্ষ শ্রিভাস্তাভা। তৃতীয় উইকেটে ৫১ রানে জুটি গড়েন তারা। দুটি করে ছক্কাচারে ৬০ বলে ৩৫ রান করা সাহিলকে ফিরিয়ে প্রতিরোধ ভাঙেন শাহরিয়ার আহমেদ। শিভ শানিও বাঁহাতি এই স্পিনারের শিকার। কয়েক ওভার পর শ্রিভাস্তাভার স্টাম্প ভেঙে দেন ইকবাল। এক ছক্কা ও তিনটি চারে ৩৯ রান করেন যুক্তরাষ্ট্র অধিনায়ক। দ্রুত আরও দুই উইকেট হারিয়ে দলটির স্কোর দাঁড়ায় ৭ উইকেটে ১২৮। একপ্রান্তে একা লড়াই চালিয়ে যান আদনিত ঝাম্ব। দারুণ ব্যাটিংয়ে ৫৮ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তাকে ফেরাতে পারেনি বাংলাদেশ। ১ ছক্কা ও ৩টি চারে ৬৮ রান আসে আদনিতের ব্যাট থেকে। আদনিতের সঙ্গে ৪৩ রানের জুটি গড়া আদিত কাপ্পাকে ফিরিয়ে যুব ওয়ানডেতে দ্রুততম ৫০ উইকেটে নেওয়ার রেকর্ড গড়েন ফাহাদ। এই মাইলফলক ছুঁতে তার লাগল ২৫ ম্যাচ। ২৬ ম্যাচে ৫০ উইকেট নিয়ে আগের রেকর্ডটি ছিল ভারতের ভিজায়কুমার ইয়ো মাহেশের।

জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশকে ভালো শুরু এনে দেন জাওয়াদ ও রিফাত বেগ। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে আদিতকে তিনটি চার ও একটি ছক্কা মারা জাওয়াদের বিদায়ে ভাঙে ৭৮ রানের উদ্বোধনী জুটি। সাহিলকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই ওপেনার। জাওয়াদ ফেরার দুই ওভার পর ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন রিফাতও। ৩টি চারে ৩০ রান করেন তিনি। এরপর কালাম সিদ্দিকিকে নিয়ে দলকে লক্ষ্যে এগিয়ে নেন আজিজুল। কিন্তু কাজ শেষ করে ফিরতে পারেননি ৬৩ বলে ফিফটি স্পর্শ করা অধিনায়ক। জয় যখন ২৪ রান দূরে, রিতভিকের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। রিজান ও কালাম মিলে বাকি পথ পাড়ি দেন। শ্রিভাস্তাভার পর আদিতকে ছক্কায় উড়িয়ে বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন রিজান। ২০ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। কালাম কোনো বাউন্ডারি ছাড়া অপরাজিত ৩০ রান নিয়ে ফেরেন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধসরস্বতী পূজায় বিদ্যা দেবীর আরাধনা
পরবর্তী নিবন্ধ১০ দলীয় ঐক্যের জনজোয়ারে একটি বড় দল ভয় পেয়েছে : নাহিদ ইসলাম