যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী কি তবে শাবানা মাহমুদ?

এপস্টেইনের ধাক্কায় টলমল স্টারমারের গদি

| বুধবার , ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ১০:৪২ পূর্বাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন নথি প্রকাশের ধাক্কা লেগেছে যুক্তরাজ্যেও। সেই ধাক্কায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মারের পদত্যাগের দাবি জোরালো হচ্ছে। আর এখানেই উঠে আসছে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের নাম। চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় যুক্তরাজ্যে ক্ষমতার সমীকরণ বদলে গেলে শাবানাই হতে পারেন দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। শাবানা এরই মধ্যে স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসাবে আবির্ভূত হয়েছেন।

এপস্টেইন ঘনিষ্ঠ পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসাবে নিয়োগ করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী স্টারমার। এ নিয়েই বিতর্কের সূত্রপাত। ওই নিয়োগের দায় স্বীকার করে পদত্যাগ করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চিফ অফ স্টাফ মর্গ্যান ম্যাকসুইনে। এর রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার পদত্যাগ করেন ডাউনিং স্ট্রিটের জনসংযোগ প্রধান টিম অ্যালান। তার পরেই জোরদার হয়েছে স্টারমারের পদত্যাগের দাবি। যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন দল লেবার পার্টি থেকেও স্টারমারের পদত্যাগ দাবি উঠছে। খবর বিডিনিউজের।

স্টারমার তার ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েও পার পাচ্ছেন না। তার ঘনিষ্ঠ দুই কর্মকর্তা ম্যান্ডেলসনের নিয়োগে তাদের ভূমিকার দায় মাথায় নিয়ে পদত্যাগ করলেও তা স্টারমারের গদি টিকিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট বলে মনে করছেন না অনেকেই। স্টারমার যদিও বলেছেন তিনি পদত্যাগ করছেন না এবং পার্টির সদস্যদের সমর্থন জোগাড়ের চেষ্টা করছেন। কিন্তু তার মধ্যেই দেশের পরবর্তী সম্ভাব্য নেতা হিসাবে আলোচনায় উঠে আসছেন শাবানা মাহমুদ।

কে এই শাবানা মাহমুদ?

বর্তমানে তিনি দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং লেবার পার্টির প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তার মন্ত্রণালয় পুলিশিং, অভিবাসন এবং জাতীয় নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তদারকি করে।

১৯৮০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে জন্মগ্রহণ করা শাবানা মাহমুদের বাবামা পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরের বাসিন্দা। শৈশবের প্রথম পাঁচ বছর সৌদি আরবে কাটানোর পর তিনি বার্মিংহামে ফিরে যান।

অঙফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের লিঙ্কন কলেজ থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক শেষ করে তিনি ২০০৩ সালে ব্যারিস্টার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। ২০১০ সালে বার্মিংহাম লেডাউড আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে তিনি যুক্তরাজ্যের প্রথম নারী মুসলিম সংসদ সদস্যদের একজন হিসেবে ইতিহাস গড়েন।

২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি ছায়া মন্ত্রিসভার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৫ সালে জেরেমি করবিন লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হলে নীতিগত পার্থক্যের কারণে তিনি ছায়া মন্ত্রিসভা ত্যাগ করেছিলেন।

২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টির জয়ের পর তিনি প্রথমে বিচারমন্ত্রী ও লর্ড চ্যান্সেলর নিযুক্ত হন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে অ্যাঞ্জেলা রেনার পদত্যাগ করলে তাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থানের কারণে তিনি দলের ভেতরে বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন।

শাবানা মাহমুদের উত্থানের মূলে রয়েছে তার কঠোর ও আপসহীন ভাবমূর্তি। তার চেষ্টাতেই লেবার পার্টি নাইজেল ফারাজের ডানপন্থি দল ‘রিফর্ম ইউকে’র দিকে ঝুঁকে পড়া ভোটারদের ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। তবে তার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ বা দলীয় নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জের ওপর নির্ভর করছে। আর এই চ্যালেঞ্জ জানাতে পার্লামেন্টে লেবার পার্টির অন্তত ৮১ জন এমপির সমর্থন প্রয়োজন হবে।

স্কটিশ লেবার নেতা আনাস সারওয়ার সরাসরি স্টারমারের পদত্যাগ দাবি করার পর তার নেতৃত্বে চ্যালেঞ্জ বেড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পরিস্থিতি তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

পূর্ববর্তী নিবন্ধহাদির পরিবার পেল ফ্ল্যাটের দলিল ও চাবি
পরবর্তী নিবন্ধঅক্সিজেন এলাকায় স্টারশিপ জুস কারখানায় আগুন