পত্রিকা এবং টেলিভিশনে প্রায়ই রিকশা, ইজিবাইক কিংবা মোটরসাইকেলের চাকায় ওড়না প্যাঁচিয়ে মহিলা অথবা তরুণী ছাত্রীর মৃত্যুর খবর যখন দেখি বুকটা তখন হাহাকার করে ওঠে। মনে হয়, আমার পরিবারের কিংবা কাছের কেউ অথবা আমি যদি তার জায়গায় হতাম, তাহলে আমাদের স্বপ্নগুলো কি এক নিমিষেই শেষ হয়ে যেত না? আমরা মেয়েদের সবচেয়ে কাছের সঙ্গী হলো ওড়না বা শাড়ির আঁচল। অথচ সেই পরিচিত কাপড়টাই কখনো কখনো আমাদের অনেকের মৃত্যুফাঁদ হয়ে উঠছে। ভাবতে কষ্ট হয় এই হঠাৎ, অপ্রত্যাশিত এবং অকাল মৃত্যু আসলে আমাদের অসচেতনতারই ফল। একটু সতর্ক হলেই তো বাঁচানো যায় একটি জীবন।
আমি বিশ্বাস করি আমাদের মেয়েদেরই প্রথম সচেতন হতে হবে। গাড়িতে উঠার সময় কাপড় যেন চাকায় না পড়ে সেটা খেয়াল রাখা আমাদের দায়িত্ব। একই সঙ্গে চালকদেরও দায়িত্ব আছে যাত্রীকে সতর্ক করার। আর সরকারের উচিত সব যানবাহনের চাকায় প্রোটেকশন কাভার বাধ্যতামূলক করা।
আমরা যারা স্কুল–কলেজে পড়ি আমাদের সচেতনতাই বেশি প্রয়োজন, কারণ প্রায় প্রতিদিনই আমাদের ঘর থেকে বের হতে হয়। ভবিষ্যতে আর কোনো মায়ের কোল যেন খালি না হয় তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমে এ বিষয়ে সচেতনতা এবং প্রচারণা বাড়াতে হবে।
আমি শুধু চাই আমার মতো প্রতিটি মেয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরুক। আঁচলের ফাঁদে যেন আর কোনো প্রাণ ঝরতে না হয়। আসলে একটু সচেতনতাই পারে আমাদের সকল স্বপ্ন পূরণ করতে।