যত শক্তিশালীই হোক খাল দখলদারকে ছাড় নয়

মীরসরাইয়ে বামনসুন্দর খাল খনন উদ্বোধনে অর্থমন্ত্রী ছয় মাসের মধ্যে ১২শ কিলোমিটার খাল খনন

মীরসরাই প্রতিনিধি | মঙ্গলবার , ১৭ মার্চ, ২০২৬ at ৬:১৩ পূর্বাহ্ণ

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করছে। এসব প্রকল্পে দুর্নীতির স্থান নেই। যতই শক্তিশালী হোক খাল দখলদারকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাই আগে থেকে নিজেরাই সংশোধন হয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাই।

গতকাল সোমবার দুপুরে মীরসরাইয়ের বামনসুন্দর খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমরা জেনেছি, বিভিন্ন স্থানে খাল দখল হয়েছে। দেশের অর্থনীতির অবস্থা ভালো নয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলছে। এর মধ্যেও সরকার সব কাজ করে যাচ্ছে। পাশাপাশি এনার্জি ক্রাইসিসের মধ্যেও সরকার কাজ এগিয়ে নিচ্ছে। দেশের প্রান্তিক মানুষকে সুফল দিতে খাল খনন কর্মসূচি কৃষি ও মৎস্যসহ নানা ক্ষেত্রে পরিবর্তনের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় ভূমিকা রাখবে।

দেশব্যাপী খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের উদ্যোগে চট্টগ্রাম জেলার নির্বাচিত কৃষিপ্রধান জনপদের বামনসুন্দর এলাকার আলিরপোল এলাকা থেকে বানাতলী পর্যন্ত তিন কিলোমিটার এলাকা পুনঃখনন করা হবে। এতে করে সরাসরি উপকারভোগী হবেন সাধারণ কৃষক। কৃষিতে সেচ নিশ্চিত করা যাবে প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে।

আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নির্বাচনি ইশতেহারে খাল খনন কর্মসূচির প্রস্তাব আছে। আমরা নির্বাচনি ইশতেহারে যতগুলো ওয়াদা জনগণের কাছে করেছি, একটার পর একটা বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এর মধ্যে খাল খনন কর্মসূচিতে সমগ্র বাংলাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে ১ হাজার ২শ কিলোমিটার আমাদেরকে সম্পন্ন করতে হবে। এখানে তিন কিলোমিটার আজকে আমরা শুরু করেছি। বাকিটা ক্রমান্বয়ে শেষ করতে পারব। বামনসুন্দর খালের কাজ পুরোপুরি শেষ হলে ১৫ হাজার হেক্টর জমি চাষাবাদের আওতায় নতুনভাবে আসবে এবং সেই জমিতে আরো ৫ হাজার মেট্রিক টন অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদিত হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বুঝতেই পারছেন, এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার কতটুকু উন্নয়ন হবে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতায় যে গ্যাপটা আছে সেটা আমরা পূরণ করতে যাচ্ছি ইনশাআল্লাহ। তদুপরি পানি নিষ্কাশনের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা থেকে আমরা মুক্তি পাব এবং এখানে সেচের কাজ হবে। সাথে সাথে মাছের চাষও হবে। পাশাপাশি খালের দুই পাড়ে যে বৃক্ষরোপণ করব, সেটাও আমার অর্থনীতিতে যথেষ্ট অবদান রাখবে। কার্বন ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের অবদান রাখবে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের খাল কাটা কর্মসূচির আলোকে নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল, নদী, নাল, জলাধার খনন করা হবে। জিয়াউর রহমানের সময় এ কর্মসূচির প্রথম পর্যায়ে ৬৭৫.১৮ মাইল দীর্ঘ ১৯৩টি খাল খনন ও পুনঃখনন করা হয়।

২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কাজ শেষ হলে বাংলাদেশের চিত্র বদলে যাবে মন্তব্য করে অর্থমন্ত্রী বলেন, খাদ্যের ঘাটতি কমে আসবে। জলবায়ুর উপর একটা বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। সেচব্যবস্থার পরিবর্তন আসবে। এই কাজটা জিয়াউর রহমান সাহেব শুরু করেছিলেন। পরিবর্তীতে এটা আমরা শেষ করতে পারিনি। সেই ভাবনায় এই প্রকল্পটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হাতে নিয়েছেন। এই খালগুলোর মালিকানা সরকারের। ইতোমধ্যে ডিমার্কেশন হয়ে যাচ্ছে। ওই সীমানার ভেতরে যতই প্রভাবশালী ব্যক্তি থাকার চেষ্টা করবে কোনো সুযোগ থাকবে না। যতটুকু সীমানা নির্ধারণ হবে অতটুকু খাল আমরা খনন করব। কেউ দখল করার কোনো সুযোগ থাকবে না।

খাল খনন প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অর্থের সব হিসাব করেই তো আমরা এই কাজটা করতে নেমেছি। সবগুলো বাজেটেড, কস্টেড অ্যান্ড বাজেটেড। এজন্য আমরা ক্রমান্বয়ে পুরো প্রকল্পগুলো সময়ের উপর শেষ করতে চাচ্ছি। যখন শেষ হতে থাকবে আপনারা দেখবেন এর প্রভাব অর্থনীতিতে, মানুষের জীবনযাত্রার মানে ও পরিবেশের উপরে। তিনি বলেন, পরিবর্তিত, রূপান্তরিত বাংলাদেশে যে সরকার এগুলো হচ্ছে তার অংশ। বাংলাদেশের অর্থনীতির সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার যে চেষ্টা সেগুলো হচ্ছে এটা। দুর্নীতি, ওয়েস্টেজ এবং ডেলিভারির মধ্যে যে লিকেজ থাকে সেগুলোকে অ্যাড্রেস করা হয়েছে। প্রত্যেক কিছুকে অ্যাড্রেস করে কীভাবে সব প্রকল্প স্বচ্ছতার সাথে সম্পাদন করতে পারিএটাই এই সরকারের সবচেয়ে বড় চিন্তা। এবং দুর্নীতিকে সম্পূর্ণভাবে বাইরে রেখে।

খাল খনন কর্মসূচি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, খাল খনন আমাদের কমিটমেন্ট ছিল। আপনারা জানেন, এখানে কাজ শুরু হয়েছে। হাটহাজারীতেও ভঞ্জন খাল এবং মিঠাছড়া খাল খনন করা হবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে যে খাল খনন উদ্বোধন করেছিলেন সেটাই মিঠাছড়া খাল। ওটা অলরেডি সাড়ে পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে তিন কিলোমিটার কাজ হয়ে গেছে। বাকিটাও চলমান আছে। এ রকম করে যতগুলো খাল আছে এবং ছোট ছোট ছড়া আছে, এগুলো সব আমাদের ২০ হাজার কিলোমিটারের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত।

তিনি বলেন, যখন মাথা ঠিক থাকে, তখন সবই ঠিক আছে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে আছেন। এক মাসও হয়নি। এর মধ্যে যত কমিটমেন্ট আছে, প্রত্যেকটা করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবগুলো কমিটমেন্ট আমরা বাস্তবায়ন করব।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মীরসরাইয়ের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মুহাম্মদ বদিউল আলম সরকার, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজির আহমেদ খান, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের প্রকল্প পরিচালক ও তত্ত্বাবধায়ক মো. নুরুল ইসলাম, মীরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার, মীরসরাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল আউয়াল চৌধুরী, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আজিজুর রহমান চৌধুরী, সাবেক সদস্যসচিব গাজী নিজাম উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলমগীর, বারইয়ারহাট পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক দিদারুল আলম মিয়াজী প্রমুখ।

পূর্ববর্তী নিবন্ধচিন্তায় ও কর্মে আত্মশুদ্ধি রোজার শিক্ষা
পরবর্তী নিবন্ধট্রেন-বাসে উপচে পড়া ভিড়