মৌসুমের আগেই টেকনাফে কাঁচা আমের বাজার

কেজি ৫০০ টাকা, সাত দিনে বিক্রি ১২ লাখ

কক্সবাজার প্রতিনিধি | বুধবার , ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ at ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ

আমের মূল মৌসুম আসতে এখনো অনেক সময় বাকি। ঋতু পরিক্রমায় গাছে কেবল মুকুল এসেছে মাত্র। কিন্তু দেশের সীমান্ত উপজেলা কক্সবাজারের টেকনাফে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। মৌসুমের দেড় থেকে দুই মাস আগেই টেকনাফের বাজারে দোকানে দোকানে শোভা পাচ্ছে কাঁচা আম। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফে প্রতিবছরই দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে বেশ আগে গাছে আম ধরে। স্থানীয় ফল ব্যবসায়ীরা বলছেন, দেড় থেকে দুই মাস অবশিষ্ট থাকতেই টেকনাফে বাজারে উঠেছে আম। চাহিদা বেশি থাকায় কাঁচা হলেও আগাম বিক্রি হচ্ছে। কেজিপ্রতি ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকায়। দাম বেশি হলেও বিক্রি ভালো।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, টেকনাফ স্টেশনের বেশ কয়েকটি ফলের দোকানে তরে তরে সাজানো রয়েছে কাঁচা আমের আঁটি। এখানে সবচেয়ে বেশি কাঁচা আম বিক্রি হয় ‘মামাভাগিনা’ নামের একটি ফলের দোকানে। শুধু স্থানীয় বাজারে নয়; টেকনাফের এসব আগাম ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের সরবরাহ করছেন ব্যবসায়ীরা।

এ ব্যাপারে ওই দোকানের মালিক মো. ইউনুস জানান, পাঁচ বছর ধরে তারা বিভিন্ন ফলের পাশাপাশি কাঁচা আমও বিক্রি করছেন। গত সাতদিনে টেকনাফের বাহারছড়া, কচ্ছপিয়া ও সাবরাং এলাকা থেকে অন্তত ১২ লাখ টাকার কাঁচা আম সংগ্রহ করেছেন, যার বেশির ভাগ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়েছে।

টেকনাফ পৌরসভার আরেক দোকানদার জসিম উদ্দিন বলেন, শীতের সময় বাজারে আম উঠবেএমনটা অনেকে বিশ্বাস করতে চান না। তাই প্রথমে ক্রেতাদের বুঝিয়ে বলতে হয় যে, এটি টেকনাফের স্থানীয় আগাম জাতের আম। কেজিপ্রতি দাম বেশি হলেও রমজানকে সামনে রেখে অনেকেই স্বাদ নেওয়ার জন্য কিনছেন। এ আমের চাহিদা বেশি থাকায় প্রতিদিন ভালো বিক্রি হচ্ছে। এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, এটি সম্ভবত বারোমাসি স্থানীয় একটি জাত, যা দেশের অন্য কোথাও দেখা যায়নি। দেখতে মিল থাকলেও এটি ‘রাঙ্গুয়াই’ নয়। টেকনাফের আর্দ্র ও উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে আম দেড় থেকে দুই মাস আগে ফলন দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত গবেষণা প্রয়োজন।

পূর্ববর্তী নিবন্ধমাতৃভাষার প্রতি মমত্ববোধ আমাদের বৃদ্ধি করতে হবে
পরবর্তী নিবন্ধবিএনপি সব সময় বঞ্চিত মানুষের পক্ষে কাজ করে